একটি নোটিশকে কেন্দ্র করে তুমুল হইচই বাংলাদেশে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কেন এই নোটিস দিলেন? যেখানে বলা হচ্ছে, স্কুল দু দিন বন্ধ থাকবে। সেটা আবার এনসিপির কর্মসূচির জন্য। স্কুলে পরীক্ষা হবে না। নেত্রকোনা পুলিশ লাইন স্কুলের এমন নোটিশে কার্যত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সেই নোটিশ ছড়িয়ে পড়তেই দেখা যায়, সেটি মুছে ফেলা হয়েছে। পাল্টা নতুন একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। এবং সেখানে দাবি করা হয়, ছড়িয়ে পড়া নোটিশটি ভুয়ো। এটা অপপ্রচার। তবে অনেকেই আগের পোস্ট স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছেন। এবং সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ওই স্কুলের পেজ থেকেই নোটিশটি জারি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে অস্বীকার করতে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে ওই স্কুলের ওই পেজটি কারা চালায়? যেখানে নতুন নোটিস জারি করার পর বলা হচ্ছে ভুয়ো?
বাংলাদেশে যে অরাজকতা চলছে সেটা কারও অজানা নয়। কেউ অস্বীকারও করতে পারবে না। পাশাপাশি ইউনূসের সরকার যে রসাতলে যাচ্ছে, সেটা পরিষ্কার। জানা যাচ্ছে, নেত্রকোনায় ২৭ তারিখ এনসিপি যাবে পথসভা করার উদ্দেশ্যে। এমনকি তাদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বহর তৈরি করা হয়েছে। বাইরে থেকে পুলিশ যাতে থাকতে পারে, সেই কারণেই নেত্রকোনার পুলিশ লাইন স্কুল খালি করে দেওয়া হচ্ছে। এবং ২৭ ও ২৮ তারিখ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল ওই স্কুলটির পক্ষ থেকে। কিন্তু সেই নোটিশ মুছে ফেলা হয়েছে ফেসবুক পেজ থেকে। পাশাপাশি অস্বীকার করা হচ্ছে। সেই নোটিশ নাকি তারা দিতেই চায়নি। তবে অস্বীকার করা হলেও ওই নোটিশটি অনেকেই স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছিলেন। অন্যদিকে ওটিকে সরিয়ে পরবর্তীকালে যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে সেখানে লেখা, ২৭ এবং ২৮ তারিখ স্কুল বন্ধের যে নোটিশ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সেটা ভুল। স্কুলের প্রতি একটি বিভ্রান্তিমূলক ষড়যন্ত্র। যথাযথ সময়ে ক্লাস চলবে এবং পরীক্ষা হবে বলে জানানো হয়। আর এতেই বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি বলা হচ্ছে, সমালোচনা বা বিতর্কের জন্ম দিতেই সেটি মুছে ফেলে ষড়যন্ত্রের কথা বলে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য স্কুল বন্ধের বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি কেউ।
আদতে এনসিপি নামক দলটি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এমনকি তারা সামাল দিতে পারছে না পরিস্থিতি। প্রসঙ্গত, গোপালগঞ্জে এনসিপি সমাবেশ করতে গেলে আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থক ছাড়াও গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ তাদের উপর হামলা চালায়। কিছুদিন আগে চোকোরিয়াতেও তাদের সবার মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়। বারে বারে সেনাদের সাহায্য নিয়ে ঘটনাস্থল ছাড়তে হচ্ছে এনসিপি নেতাদের। তাই যেখানেই তারা সভা করতে চাইছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। জানা যাচ্ছে, নেত্রকোনাতে দলটির সমাবেশ ঘিরে ৪০০ বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হবে জানা গিয়েছে। এরমধ্যে নেত্রকোনার বাইরে থেকে ৬৬ জন পুলিশ সদস্যকে আনা হচ্ছে। তাদের থাকার জন্যই নেত্রকোনার পুলিশ লাইন স্কুল বন্ধ করার জারি করা হয়েছিল। এমন কি বিষয়টি বাংলাদেশের বড় পত্রিকা কেউ পর্যন্ত জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিতর্কে জন্ম দিতে এবং সমালোচনার ঝড় উঠতে জানানো হয় সেটি মিথ্যে। এমনকি নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বোঝাই যাচ্ছে, এনসিপি নামক দলটিকে সরকার কিংস পার্টি হিসেবে পরিচালনা করছেন। এবং তাদের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। সেনাবাহিনী থেকে পুলিশ প্রশাসন, প্রত্যেককেই ছাত্র নেতাদের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এতে করে সরকারের যে মান কোথায় গিয়ে নামছে, সেটা ঘিরেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।












Discussion about this post