৬ই নভেম্বর জামাতের নেতৃত্বে ছয়টি ইসলামিক দল আল্টিমেটাম দিয়েছিল। যে ১০ তারিখের মধ্যে তাদের দাবি মেনে না নেওয়া হয়, তবে ১১ তারিখে তাদের ভিন্ন রূপ দেখবে সরকার এবং জনগণ। আজ ১১ তারিখ। তাদের আল্টিমেটামের মতোই ভিন্ন রূপ দেখল দেশবাসী। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এরপরের কি পদক্ষেপ তাদের? এদিকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি চলছে। তারা ১০,১১, ১২ ..তিন দিনের মিছিলের কর্মসূচি, ১৩ তারিখে লকডাউনের কর্মসূচি নিয়েছে। এই কর্মসূচি একদিকে যেমন চলছে, গতকালকেও অন্তত ১৩ জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা দেখেছি আমরা। তিনটি বাস পোড়ানোর ঘটনাও লক্ষ্য করা গিয়েছে। যদিও সেগুলি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। তারমধ্যে পল্টন মোড়ে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ জামায়েত সহ আটটি দলের। তবে কি এরপর আরও বড় কোনও খেলা শুরু করবে?
তবে এরপর কি পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী। জামাতের নেতৃত্বে ৮ দলের ইসলামী দলের আলটিমেটামের দিন আজ। আজ তারা সমাবেশ করল পুরোনো ঢাকার পল্টন এলাকায়। আজ পুরোনো ঢাকার ওই অঞ্চলটি প্রায় বন্ধ রয়েছে। মানুষের পক্ষে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। একদিকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আর একদিকে জামাত সহ আরও আট দলের আলটিমেটাম। তাদের পাঁচ দফা দাবি ছিল। সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চান এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির রাশেদ প্রধান-সহ ৮ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
তাদের দাবি হল, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন করা, পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জাতীয় পার্টি-সহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
জামাত বলেছে, তারা বিরোধী দলে যেতে চায় না। অর্থাৎ আগামী সংসদ হবে সর্বদলীয় সংসদ। এটাই জামাত চায় শেষ পর্যন্ত। জামাত চায়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলেও তারা যেন জামাতকে নিয়ে এবং সব দলকে নিয়ে সরকার গঠন করে এবং সরকারের অংশ যেন হয়। জুলাই আন্দোলনের পক্ষে যারা ভূমিকা পালন করেছেন, তারা কেউ বিরোধী দল হবে না। তারা প্রত্যেকেই সরকারি দল হবে। এবং যত ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন, সেই সুযোগ সুবিধা গুলি তারা ভোগ করবে। এই বিষয়গুলি জামাতের সম্প্রতিক এই উক্তিটাই বলে দেয়, সমাধানের জায়গাটা ঠিক কোথায়। সমাধানের জায়গাটা এখন বিএনপির হাতে। বিএনপিকে এখন রাজি হতে হবে, তারা যেন জামাত সহ, এনসিপি সহ সরকার গঠন করবে। এরপর সমস্ত দাবি দাওয়া বাদ চলে যাবে। সরাসরি নির্বাচন হবে। গণভোটেরও প্রয়োজন হবে না বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এটাই শেষ পর্যন্ত এই দলগুলির তত্ত্ব। এই তত্ত্বে বিএনপি রাজি হবে কিনা, সরকার বিএনপি এবং জামাতকে এক জায়গায় আনতে পারবে কিনা, সেটাই দেখার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post