৭ই মে ভারত জুড়ে মকড্রিলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল ভারত সরকার। সেই নির্দেশ যেন একাত্তরের স্মৃতিকে উস্কে দিয়েছিল বারে বারে। কারণ ১৯৭১ এর পর আবার ২০২৫ একই ভাবে মকড্রিল নির্দেশ এসেছে। জল্পনা তৈরি হচ্ছিল একাত্তরের যুদ্ধের প্রস্ততি আবার শুরু করবে ভারতীয় সেনা।
সেই সমস্ত প্রশ্নকে পিছনে ফেলে মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাকিস্তানে প্রত্যাঘাত হানলো ভারত। অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হল পাকিস্তানি জঙ্গি ঘাটি।
পহেলগাঁও হামলার ঠিক ১৫ দিনের মাথায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিঘাঁটিগুলিতে ভয়াবহ প্রত্যাঘাত করেছে ভারতীয় সেনা। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯ জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। হামলার জেরে অন্তত ৮০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। লস্কর ই তইবা, জইশ ই মহম্মদ-সহ একাধিক জঙ্গির ডেরা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই হামলায় লস্কর ই তইবা প্রধান হাফিজ সৈয়দ ও জইশ ই মহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজাহারের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, রাত জেগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালদের সঙ্গে ‘অপারেশন সিঁদুরে’ নজরদারি রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার নয়াদিল্লির আশ্বাস অনুযায়ী মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আঘাত হানে ভারতীয় বাহিনী।
পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের ৯টি জায়গায় জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে স্ট্রাইক করা হয়েছে। রাত জেগে গোটা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর উপর কড়া নজর রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। আর ধারাবাহিক ভাবে তাঁকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সমস্ত খবর প্রদান করে গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।
এবং ভারতের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই সফল প্রত্যাঘাতের পরে ভারতীয় সেনার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘কিছু ক্ষণ আগে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করল। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কাঠামোগুলিকে আঘাত করা হয়েছে। যেখান থেকে ভারতে হামলার পরিকল্পনা এবং পরিচালনা করা হয়। সব মিলিয়ে ন’টি জায়গায় প্রত্যাঘাত করা হয়েছে।’’
প্রসঙ্গত,৭ই মে কেন্দ্র সরকারের নির্দেশে, ভারতের প্রতিটি রাজ্যের স্কুল, কলেজ, অফিস, কমিউনিটি সেন্টারগুলিতে মক ড্রিলের মাধ্যমে ওয়ার্কশপ করানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। হঠাৎ হামলা হলে কাছাকাছি আশ্রয়স্থল কীভাবে খুঁজে বের করতে হবে তা শেখানো হবে এই ড্রিলের মাধ্যমে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রত্যাঘাতের আগে মগড্রিল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছিল, বিমান হামলার সময়ে সতর্কতামূলক সাইরেন ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে । পাশাপাশি রাতে হামলার ক্ষেত্রে যুদ্ধবিমানের খবর পাওয়া মাত্র যাতে হঠাৎ করে সমস্ত আলো নিভিয়ে দিয়ে ‘ ব্ল্যাকআউট’ করে শত্রু বিমানবাহিনীকে বিভ্রান্ত করে দেওয়া যায়, তারও মহড়া হবে।
আর সম্প্রতি কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুতে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী গুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার পূর্বে এই মগড্রিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা।
কারণ ১৯৭১ সালে ভারত পাক যুদ্ধের আবহে বিভিন্ন রাজ্যে মহড়া চালানো হয়েছিল। সাইরেন বাজিয়ে ব্ল্যাক আউটের কৌশল নেওয়া হয়েছিল। তারপর আবার ২০২৫ এ এল মক ড্রিলের নির্দেশ, বর্তমান পরিস্থিতিতে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই ধারণা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার পর ১৫ দিনের মাথায় ভারত যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত হানার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল তা সাধারণ মানুষের কাছে ছিল কল্পনারও অতীত ।












Discussion about this post