সন্ত্রাসবাদ দমন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, মানবপাচার রোধের মতো বিষয়গুলিতে এবার একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সেই সঙ্গে এ বার দুই দেশের কূটনীতিক এবং সরকারি আধিকারিকদের ভিসা ছাড়াই প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইসলামাবাদ এবং ঢাকা। সবমিলিয়ে কেস জন্ডিস। সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও জিহাদি উৎপাদনে যে দুই দেশ এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে, সেই দুই দেশই নাকি এখন হাত মিলিয়ে সন্ত্রাসবাদ দমন করবে। পাশাপাশি মাদক ও মানব পাচার রুখবে! বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণমন্ত্রী মহসিন নকভি। সেখানেই দুই দেশ এই সমস্ত বিষয়ে একমত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আসল রহস্যটা কি? জোরদার চর্চা চলছে আন্তর্জাতিক মহলে।
গত ২২ মে কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, ভারত তার মোক্ষম জবাব দিয়েছে অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে। প্রায় চারদিন ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে। যাতে ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ও পাক সেনাবাহিনীর ১৭-১৯টি সামরিক ও বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। এই জোরদার থাপ্পড় খেয়েও পাকিস্তান সমঝে যায়নি, তাঁরা এবারে বাংলাদেশকে হাতিয়ার করে ভারতকে চাপে ফেলতে চাইছে। আর বাংলাদেশের বর্তমান অন্তরবর্তীকালীন সরকারও ১৯৭১ পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে চেয়ে পাকিস্তানকে বুকে টেনে নিচ্ছে। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে একটা অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে ধীরে ধীরে। এটা ভারতের জন্য বড় হুমকি বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।
সম্প্রতি কর্মীদের জন্য ‘শালীন পোশাকবিধি’জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক। পুরুষ কর্মীদের জিন্সের প্যান্ট না-পরার জন্য বলা হয়েছিল। মহিলা কর্মীদেরও ছোট হাতা এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যের পোশাক না-পরার কথা বলা হয় ওই নির্দেশিকায়। এমনকি মহিলা কর্মীরা কেউ ‘হেড স্কার্ফ’ বা হিজাব পরলে তা-ও সাদামাটা হতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রধান ব্যাঙ্কের এই তালিবানি ফতোয়া সামনে আসতেই শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। ফলে তড়িঘড়ি সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশে যে ধীরে ধীরে কট্টর ইসলামি শাসন জারি করার চেষ্টা হচ্ছে, এটা তার একটা ছোট্ট নমুনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। পাশাপাশি বাংলাদেশ যে ধীরে ধীরে পাকিস্তানের দিকেও প্রবলভাবে ঝুঁকছে, সেটাও স্পষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশের প্রশিক্ষণের বিষয়েও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করবে বলে স্থির হয়েছে। খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের ন্যাশনাল পুলিশ অ্যাকাডেমিতে যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এবার কোনও দেশের নাগরিকদেরই আগাম ভিসা নিতে হবে না। দুই দেশে যাঁদের কাছে কূটনৈতিক এবং সরকারি পাসপোর্ট থাকবে, তাঁদের ভিসা ছাড়াই প্রবেশাধিকার পাবেন। এই দুটি সিদ্ধান্তেই বোঝা যায়, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক কতটা মধুর হয়েছে। তবে কেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীর সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণমন্ত্রী মহসিন নকভির বৈঠকের পর সন্ত্রাসবাদ দমন ও মাদক পাচার রোধের বিষয় নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হল? কূটনৈতিক মহলের মতে, এটা হল নজর ঘোরানোর কৌশল।
এমনিতেই বাংলাদেশ এখন সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তকমা পাওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন নবম দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও তাঁদের মিশন চালু করতে চলেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ উপদ্রুত অঞ্চল হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে চলেছে খুব শীঘ্রই। এই পরিস্থিতিতে আরেক জঙ্গিরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ দমন চুক্তি করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কিছু একটা প্রমাণ করতে মরিয়া বাংলাদেশের ইউনূস প্রশাসন। কিন্তু তলে তলে পাকিস্তানের আইএসআই ও পাক সেনাকর্তারা বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে নির্দিষ্ট প্রমান থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। আর সেই প্রমান যে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের কাছে পৌঁছে যায়নি, সেটাও ভাবা অন্যায়। এই আবহে বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস সরকার এখন চাপে, তাই মুসলিম বিশ্বে দুই প্রভাবশালী দেশ পাকিস্তান ও তুরস্ককে পাশে পেতে মরিয়া প্রচেষ্টা করে চলেছেন তিনি। কিন্তু শাক দিয়ে কি মাছ ঢাকা যায়? ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি মুসলিম কট্টরপন্থী সংগঠন এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তেহরী প্রকাশ্যে মার্চ ফর খিলাফৎ আয়োজন করে আন্তর্জাতিক নজরে চলে এসেছে। বাংলাদেশ সেনা দেশের নাগরিকদের উপরেই নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। বিভিন্ন সময় জিহাদি ফতোয়া জারি হচ্ছে। মুহাম্মদ ইউনূস সব কিছুই মুখ বুজে মেনে নিচ্ছেন। ফলে তাঁর দিন ঘনিয়ে আসছে। এ কথা বলাই বাহুল্য।











Discussion about this post