অসুস্থ বেগম। তাঁর চিকিৎসা চলছে বাংলাদেশের এভার কেয়ার হাসপাতালে। জিয়ার জন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড। কিছুদিন আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা মারাত্মক অবনতি হওয়ায় দল তো বটেই এমনকী পরিবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের থেকে স্থিতিশীল হলেও বেগম এখনও রয়েছেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে। লন্ডন থেকে বাংলাদেশে পৌঁছে গিয়েছেন তারেক জায়া জুবেইদা। তিনি নিজেও একজন ডাক্তার। চিন, ব্রিটেন থেকে বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা এখন রয়েছেন ঢাকায়। তারা জিয়ার জন্য তৈরি মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। সব দিক থেকে বেগমকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে।
বিএনপি শীর্ষনেত্রী যাতে উন্নত চিকিৎসা পান, তার জন্য তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কাতার থেকে একটি বিমানের আসার কথা ছিল। আজ শনিবার, কাতারের সেই বিমানটি আসার কথা ছিল। বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির দৈনিকের প্রতিবেদন অনুসারে সেই বিমান এখনও বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। জানা গিয়েছে, জিয়ার জন্য কাতার সিদ্ধান্ত নিয়ে জার্মানি থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে বাংলাদেশে পাঠাবে। সেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। বিমানে তাঁর সঙ্গে কারা থাকবেন, তদারকি সরকারের তরফে একটা তালিকাও তৈরি করা হয়ে গিয়েছে। জিয়ার সঙ্গে যাবেন ছোট ছেলের আরাফত রহমানের স্ত্রী সাইদা শামিলা রহমান, বাংলাদেশের ছয়জন বিশিষ্ট চিকিৎসক, জিয়ার পরামর্শদাতা ইনামুল হক চৌধুরী, স্পেশ্যাল সিকিউরিটি ফোর্সের দুইজন। প্রশ্ন কিন্তু অন্য জায়গায়। আর সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রহস্য ক্রমত ঘনীভূত হচ্ছে।
কোনও রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রী অসুস্থ হলে সেটা জাতীয় রাজনীতির চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। জিয়ার ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে। তাঁকে কেন্দ্র করে ইউনূস সরকারের গতিবিধি সাদা চোখে দেখাটা ঠিক হবে না। তদারকি সরকার জরুরী বৈঠক ডেকে জিয়াকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মানে বেগমের সঙ্গে যে কেউ, যখন তখন যাতে দেখা করতে না পারে, তার একটা পাকা ব্যবস্থা করা হল। কিন্তু কেন? তদারকি সরকার কি তবে কিছু গোপন রাখতে চাইছেন?
বলা হচ্ছে কাতারের এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ত্রুটির কারণে জিয়ার লন্ডনযাত্রা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তিত সফরসূচি অনুসারে, তার যাওয়ার কথা ছিল রবিবার। রবিবারেও তাঁর যাওয়া হচ্ছে না। হাসপাতাল থেকে বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির দৈনিক জানিয়েছে, সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী মঙ্গলবার তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা করবেন। আদৌ কি লন্ডন যাওয়া হবে তাঁর?
প্রশ্ন তুলতে হচ্ছে এই কারণে যে জিয়ার লন্ডনে যাওয়া যদি অত্যন্ত জরুরী হয়ে থাকলে তো এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের যান্ত্রীক ত্রুটি ধরা পড়া মাত্র বিকল্প ব্যবস্থা করার কথা। কাতারের তো সেটা রয়েছে। আর সেই বিকল্প হল G650ER জেট বিমান। সমস্যা ইঞ্জিনে না ইঞ্জিন রুমে? ইঞ্জিন রুম বলতে যমুনাভবনের কথাই বলা হচ্ছে। তাছাড়া জিয়ার জন্য কি হাসপাতাল ‘Fit to fly’ সার্টিফিকেট দিয়েছে? তারেক যখন জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশে তাঁর আসা সম্ভব নয়, তখনও কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া হল জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানো হবে। তাছাড়া কাতারের তো রয়েছে ‘A319CJ’। তারা চাইলেই তো সেটা পাঠিয়ে দিতে পারত। কাতার পাঠাতে চায়নি, না বাংলাদেশ কাতারের কাছে ওই বিমান পাঠানোর অনুরোধ করেনি? কৌতুহল তো থাকছেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post