কথা শিল্পী ইউনূস ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর কোথায় না গিয়েছেন। অতীতের সব রাষ্ট্রনেতার বিদেশ সফরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। ১৫ মাসে ১৪টি দেশে সফর করেছেন। জনসাধারণকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সে সব দেশে গিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। বোঝাতে চেয়েছে বাংলাদেশকে তিনি সাফল্যের এক নতুন শিখরে নিয়ে যেতে চান। এই প্রসঙ্গে জুলাই সনদ সাক্ষরের দিনটি উল্লেখ করা যেতে পারে।
সেদিন তদারকি সরকার প্রধানকে বলতে শোনা যায়, জুলাই সনদে স্বাক্ষরের দিনটি শুধু জাতির জন্য না, সারা পৃথিবীর জন্য একটা বড় রকমের উদাহরণ হয়ে থাকবে। বহু জায়গায় এটা পাঠ্যপুস্তকে থাকবে, ক্লাস রুমে আলোচনা হবে। বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনা হবে, কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক, তারা কি বললো, আমরা কি চাই। তারা চেষ্টা করে দেখবে তাদের দেশে সেটা সম্ভব কি না। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যে উদাহরণ আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা সৃষ্টি করেছেন সেটা দেশের জন্য তো বটেই, সারা পৃথিবীর জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। দেশকে তাঁরা বহু উচ্চে নিয়ে গেছেন।
দেশকে তিনি সত্যি এমন একটা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন যে যুক্তরাজ্যের মতো দেশ এখন আর বাংলাদেশকে ছুঁতে পারছে না। আর ছুঁতে পারছে না বলে তারা অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও তারা একই নীতি নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ভিসার অপব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের একটি প্রথম সারির দৈনিকে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান – এই দুই দেশের মোট নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন এই কঠোর নীতি নেওয়া হল
গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস নতুন ‘ভিসা কমপ্লায়েন্স’ নীতি চালু করে। এই মূল্যায়নে তিনটি সূচক দেখা হয়। আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার, যুক্তরাজ্যে এসে কোর্সে উপস্থিত না হওয়া এবং মাঝপথে কোর্স ত্যাগের হার।এতে বলা হয়, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভিসা আবেদনের ৫ শতাংশের বেশি নাকচ হলে তাদের স্পনসর লাইসেন্স ঝুঁকিতে পড়বে। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশ। এ ছাড়া শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিত থাকার হার এবং মাঝপথে কোর্স ত্যাগের হারও মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।
কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন স্থগিত রেখেছে, সেটা তুলে ধরা যাক।
ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার: ২০২৫ সালের অটাম সেশন পর্যন্ত পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের সব ধরনের আবেদন স্থগিত।
ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন: বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে স্নাতকের শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করছে না।
ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন: পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত।
লন্ডন মেট্রোপলিটন, সান্ডারল্যান্ড, অক্সফোর্ড ব্রুকস, বিপিপিসহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সিএএস লেটার দিচ্ছে না বা আবেদন গ্রহণ বন্ধ করেছে।
সান্ডারল্যান্ড ও কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়: বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আবেদন স্থগিত।
হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ।
লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, তাদের ভিসা নাকচ হওয়া শিক্ষার্থীদের ৬০ শতাংশই বাংলাদেশি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাধ্যতামূলক ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট (বিসিএ)’ নীতির কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে স্পনসর লাইসেন্স হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই ঝুঁকি এড়াতে এসব দুই দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post