শুক্রবার দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। শেখ হাসিনা জনসমক্ষে আসেননি ঠিকই, তবে তার অডিও বার্তা জনসমক্ষে প্রচার করা হয়েছে। তার এই অডিও বার্তা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তিনি নানাভাবে মহমুদ ইউনূস সরকারকে সমালোচনা করেছেন। শেখ হাসিনাকে যখন ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার এই বিষয়গুলো বলা হয়, তখন উল্টে শেখ হাসিনাই ইউনূস সরকারকে ফ্যাসিস্ট বলে আখ্যা দিয়েছেন। এবং নানাভাবে সমালোচনা করেছেন। এরইমাঝে একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে কি বলার চেষ্টা করলেন শেখ হাসিনা? প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে দিল্লি থেকে বোমা ফাটালেন নেত্রী শেখ হাসিনা।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে রূপান্তরের মোড়কে কতৃত্ববাদ বলেছেন। ২৪ এর অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা, যার ১৬ বছরের শাসনামলকে বিরোধীরা ফ্যাসিবাদী শাসন বলে থাকে। একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় প্রতিটি প্রাণহানির জন্য তিনি দুঃখিত। তবে সেই সহিংসতার বিচারিক তদন্ত সীমিত করে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে। আন্দোলন দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে শেখ হাসিনাকে ইতিমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দিল্লিতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে গণভ্যুথানের সময় অহিংসতার ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এমনকি তার দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনী অংশগ্রহণ করতে পারবে না আওয়ামী লীগ। এই প্রসঙ্গেই শেখ হাসিনা বলেন, তার দলকে নিষিদ্ধ করা মানে আসন্ন নির্বাচনে কয়েক কোটি বাংলাদেশে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের একটি পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে তাকে মুক্ত, সুষ্ঠু, বা বৈধ বলা যায় না। পছন্দের দল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ভোটারদের থাকতে হবে, কাউকে ভোটে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া বা ঘরে ঘরে গিয়ে সংহিসতার হুমকি দিয়ে বিএনপি বা জামাতের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করা চলতে পারে না। এমনকি তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিলে ব্যাপক ভোট পেত দল। ভুলে গেলে চলবে না, ইউনূস নিজে বাংলাদেশের জনগণ থেকে একটা ভোটও পাননি। কিন্তু নিজের বেআইনি কর্মকাণ্ড বৈধতা দিতে দেশের কাঠামো নতুন করে দিচ্ছেন। এমনকি হাসিনা বলেন, দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও জনপ্রিয় দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক বৈধতা দাবি করা যায় না। সেটা পরিবর্তন নয়, কতৃত্ববাদ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দাবি জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনটি মিস গাইড করা হয়েছে। ঠিক যেমনটা আলজাজিরাতে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মেটিকুলাস ডিজাইন বলেন। পাশাপাশি বলার চেস্টা করেন, এর সঙ্গে বিদেশের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলার আরও অবনতি থেকাতে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন করে দ্রুত সাংবিধানিক শাসনে ফেরার দাবি তার। হাসিনা বলেন, ভয় দেখিয়ে বেছে বেছে আইন প্রয়োগ করে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় না। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সমর্থন আছে বলে উল্লেখ করেন। এখন দেখার, শেখ হাসিনা আদতে শেষমেশ কোনও ক্যারিশ্মা দেখাতে পারেন কিনা।












Discussion about this post