অনেক জল্পনা কল্পনার পর অবশেষে বাংলাদেশ পেল স্বাধীন সরকার। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের চলছিল এক নৈরাজ্যের পরিস্থিতি। গত দেড় বছরের অধিক সময় জুড়ে বাংলাদেশের রাজত্ব করেছেন অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। ইউনূসের আমলের বাংলাদেশ ক্রমশ ভিখারি দেশে পরিণত হতে চলেছিল। সে দেশের ঋণের পরিমাণ ক্রমশই বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। শুধু তাই নয়, ভারতের আদানি গ্রুপ সে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। সেই বিদ্যুতের বিলও এতটাই বেড়ে যায়, যে আদানির তরফ থেকে জানানো হয় বিদ্যুতের বিল না মেটালে অন্ধকারে থাকতে হতে পারে বাংলাদেশকে। এমনই বাংলাদেশের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলা সেই দেশটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পেয়েছে একটি সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ১৭ই ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শপথ গ্রহণ করেন বিএনপি নেত্রী তথা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। আর তারপরেই বাংলাদেশের মধ্যে থেকেই আমূল পরিবর্তন করতে চলেছে। আর্থিক উন্নয়নের মুখ দেখতে চলেছে বাংলাদেশ? অনেক ঘটনা ঘটার পরে অবশেষে বাংলাদেশে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। সেই ইঙ্গিত বিগত কয়েক মাস ধরেই মিলছিল। আর বাংলাদেশে স্থিতাবস্থা ফিরতেই প্রবাসীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। সেই সূত্রেই চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৬ দিনে বাংলাদেশে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা বিদেশি আয় এসেছে বাংলাদেশে। যা গত বছরের একই বছরের সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিদেশি মুদ্রা অর্থাৎ ডলার আয় হয়েছিল ১৪৯ কোটি ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে যা বেড়ে হয়েছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু ১৬ ফেব্রুয়ারি এসেছে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকে গতকাল মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত বেড়ে হয়েছে ৩৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ২৯.৮৫ বিলিয়ন ডলার। ৭ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ছিল ৩৪.০৬ বিলিয়ন ডলার, যা তখন আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।বাংলাদেশের নির্বাচন সামনে রেখে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ২৫ লাখ ডলার করে পাঠান প্রবাসীরা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই মাস ধরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা অনেকাংশেই বেড়েছে। এর আগে চলতি বছরের প্রথম মাস, অর্থাৎ জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি বদলে যেতে চলেছে বাংলাদেশের। এখন দেখার বিষয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে আগামী দিনে কোন পথের দিশা দেখায় সেটাই নজর রাখার বিষয়।












Discussion about this post