অনেকেই হয়তো মনে করছেন ভারত রাশিয়া থেকে তেল এবং যুদ্ধাস্ত্র কিনছে আমেরিকার নিষেধ না মেনে, তাই ট্রাম্প ভারতের উপর এত টেরিফ চাপাচ্ছে, বা ভারতের উপর এত ক্ষেপে গিয়েছে। তাদের জানা উচিৎ বহু আগের থেকেই আমেরিকার অনুরোধ উপেক্ষা করে ভারত রাশিয়া থেকে তেন এবং যুদ্ধাস্ত্র কিনছে।তখন আমেরিকা এত ক্ষেপে যায়নি।আসলে রাশিয়া থেকে তো ইউরোপ এমনকি আমেরিকাও তেল গ্যাস কিনছে, যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেছেন তার জানা নেই, তবে তিনি বিষয়টি দেখবেন। আসলে ভারত যেখানে ধাক্কা দিতে চাইছে, সেই ধাক্কাটি সফল হলে, বদলে যাবে পৃথিবী। আর থমকে যাবে আমেরিকার দাদাগিরি। হারিয়ে যাবে ডলারের সিংহাসন।আর একবার ডলার তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে আমেরিকাও শেষ, তার দাদাগিরিও শেষ। তখন উঠে আসবে নতুন মুদ্রা সেটি হল ব্রিকস। যা হয়তো ২০২৬শেই বাজারে চলে আসবে। কিন্তু এই ব্রিকসে তো শুধু ভারত একা নেই, আছে চিন রাশিয়া ব্রাজিল সহ বহু দেশ। তাহলে ভারতের উপর এত ক্ষাপ্পা কেন ট্রাম সাহেব। আসলে চিন রাশিয়া এরা তো কোন দিনই আমেরিকার পক্ষ্যে ছিল না। তাছাড়া এই ব্রিকস মুদ্রায় যদি ভারত আগ্রহ না দেখায় তাহলে এটি সাফল্যও পাবে না। কিন্তু এই ব্যাপারে ভারত শুধু আগ্রহই দেখাচ্ছে না, তারা অগ্রনী ভুমিকা পালন করছে। আর ভারত এই নামটিই যেমন অন্যদেশগুলিকে এই ব্রিকসে সামিল হতে উৎসাহ যোগাচ্ছে, তেমন আমেরিকার গাত্রদাহ ধরাচ্ছে। আসলে দশকের পর দশক ধরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে বসে আছে মার্কিন ডলার। আর ছড়ি ঘোরাচ্ছে প্রতিটা দেশের উপর,এ যেন সিন্দাবাদের ভুত।এই ডলারই যুক্তরাষ্ট্রকে বানিয়েছে বিশ্বের মাতব্বর। আর অন্য দিকে গোলামির চেনে আটকে গেছে একের পর এক দেশ। বিশ্বের সব বড় বড় বানিজ্য হয় ডলারে। আর সেই ডলারের প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করে খোদ যুক্তরাষ্ট্র। শুধু বানিজ্যই নয় আর্থিক নিষেধাজ্ঞার নামে ডলারকে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। সুইফট নামের এক আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং নেটওয়ার্ক, যেখানে প্রবেশ বা বহিস্কারের চাবি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। যা একাধিক বার পরিনত হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের অস্ত্র হিসাবে। ইরান হোক বা রাশিয়া, সুইফট থেকে বাদ পড়া মানেই আন্তর্জাতিক পেমেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া। ২০১০ সালে ইরানের উপর এই নিষেজ্ঞার প্রভাব ছিল ধ্বংসাত্বক। খাদ্য থেকে জীবনদায়ী ঔষধের তীব্র সঙ্কটে ভুগতে হয়েছে ইরানিদের। ২০২২ সালে রাশিয়ার ক্ষেত্রেও একই অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি অর্থনৈতিক মার প্যাচ নয়, এটি হল ক্ষমতার খেলা। মার্কিন বিশেষজ্ঞরাই স্থীকার করেন ডলার বিশ্ব রাজনীতির এক মারাত্বক হাতিয়ার। এখন প্রশ্ন উঠছে বিশ্ব কি চিরকাল ডলারের এই একছত্র শাসন মেনে নেবে। উত্তর হল না। এমনিতেই ভারত-রাশিয়া আবার রাশিয়া চীন তারা ডলার বাদ দিয়ে নিজেদের কারেন্সিতেই বানিজ্য চালাতে শুরু করেছিল। তবে দাবী উঠেছিল একটি নির্ভরযোগ্য মুদ্রার। যা ডলারের জায়গা নিতে পারে।বিশ্বের ৪৬ শতাংশ জনগোষ্ঠী ও ৩৭শতাংশ বৈশ্বিক জিডিপির প্রতিনিধিত্বকারী ব্রিকস জোট অর্থাৎ ব্রাজিল, রাশিয়া,ভারত,চীন,দক্ষিন আফ্রিকা,এবং নতুন সদস্য মিশর, ইরান,ও সংযু্ক্ত আরব আমিরাত এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ব্রিকস পে নামে এক ডিজিট্যাল পেমেন্টের কাজ প্রায় শেষের দিকে।এটি পশ্চিমা সুইফটের বিকল্প হিসাবে কাজ করবে। আর এই বিষয়ে যার ভুমিকা সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ, সেই দেশটি হল ১৫০ কোটির দেশ ভারত।ভারত যে এই ব্যাপারে অনেক আগের থেকেই আগ্রহী তা বুঝতে পেরেছিলেন ট্রাম্প। তাই মোদিজীকে পাশে বসিয়ে ক্লাস নিয়েছিলেন তিনি। আবারও ডেকে ছিলেন আমেরিকায়,হয়তো এবার ক্লাস নেওয়া নয়,অন্য কিছু প্ল্যান ছিল, কিন্তু মোদিজী আমেরিকা যেতে আগ্রহ দেখান নি। ফলে আরও ক্ষেপেছেন ট্রাম্প সাহেব, সঙ্গে আবার এফ ৩৫ বিমানটিকে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই আমেরিকাতে পাঠাতে রাজি হয়নি ভারত সরকার। সব মিলিয়ে ভারতের উপর খুব ক্ষেপে আছেন তিনি, এতটাই ক্ষেপেছেন যে অন্য দেশের মাধ্যমে ভারতকে পরমাণু হুকমি পর্যন্ত দিচ্ছেন। আমেরিকার মত কোন দেশ যদি পরমাণু ধমকি দেয় সেটি বিশ্বের কাছে লজ্জাজনক হবে, তাই পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে দিয়ে পরমাণু হুমকি দেওয়াচ্ছেন ট্রাম্প।তবে ডলারের শেষ রক্ষা হয়তো আর সম্ভব নয়।












Discussion about this post