প্রতিবেশী? না কি বেইমান? না কি বেইমান প্রতিবেশী?
তৃতীয়টাই সব থেকে যুতসই। কারণ,গত জুলা-অগাস্টের পর থেকে সেখানে যা কিছু হয়েছে, তা ছত্রে ছত্রে প্রমাণ করে দেশটি একটি বেইমান প্রতিবেশী দেশে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে মাখামাখি থেকে শুরু করে, সীমান্তে জঙ্গি শিবির গড়ে তুলতে দেওয়া। সে দেশের পাকিস্তানের দূতাবাসের মধ্যে আইএসআই-য়ের দফতর খুলতে দেওয়া, সে দেশের মাটিকে সন্ত্রাসীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া, ভারতের মানচিত্র বিকৃত করে ছাপানো – বলে শেষ করা যাবে না। আর সর্বশেষ যে ঘটনা ঘটল, সেটা কার্যত ভারতের সহ্যসীমার বাইরে চলে গেল। একসময় যার নাম শুনলে অসমবাসী ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপত, সেই পরেশ বড়ুয়াকে জামাই আদরে রেখেছেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে থাকা খবর তেমনই। জামায়াতে ইসলামির অনুগত চূড়ান্ত ভারত-বিদ্বেষী কয়েকজন প্রাক্তন সেনাকর্তার সঙ্গে তিনি আলোচনাও সেরেছেন। তবে পরেশের সাবেক সহচর আত্মসমর্পণকারী আলফা নেতা অনুপ চেটিয়া বলেছেন, ‘আমার ধারণা, এটা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সাজানো কাহিনি। পরেশ বাংলাদেশে যাননি।’ পরেশের সঙ্গে তাঁর মাঝে মাঝেই ফোনে কথা হয় জানিয়ে অনুপের দাবি, ‘উনি ঢাকায় গেলে ঠিকই খবর পেতাম।’
পরেশ বড়ুয়া মুখে যাই বলুন না কেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা যে সূত্রে এই খবর পেয়েছে, সেই সূত্র এতটা পলকা নয় যে পরেশ ঢাকায় না থাকার পরেও সূত্রটি দাবি করবে যে এই আলফা নেতা সেখানেই রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তা বলেন, ‘পরেশ বরুয়াকে আলোচনার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার অর্থ উত্তর-পূর্বাংশকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি এখন আর শুধু হুমকির পর্যায়ে নেই, বাংলাদেশের শক্তিশালী একটি ভারত-বিদ্বেষী অংশ তা বাস্তবায়িত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাঁর সংযোজন, ‘পরেশ কেবলমাত্র আলফা-র সর্বাধিনায়ক নন, উত্তর-পূর্বের প্রতিটি রাজ্যের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। সুতরাং, শিলিগুড়ি করিডর পেরিয়ে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উত্তর-পূর্ব ভারতের যে সাতটি রাজ্যকে ভারত থেকে আলাদা করার হুমকি বাংলাদেশের কিছু প্রাক্তন সেনাকর্তা এবং ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলি দিচ্ছে, তা বাস্তবায়ন করার উপযুক্ত লোক হতে পারেন পরেশ বড়ুয়াই।’
ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম, সংক্ষেপে আলফার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ নেতা ভারত সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও স্বাধীন অসমের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলনের পথ ছাড়তে অস্বীকার করেন পরেশ। তিনি একটি নতুন সংগঠন তৈরি করেছেন। সেই সংগঠনের নাম আলফা স্বাধীন। পরেশ বড়ুয়া থাকেন মায়ানমার সীমান্তে চিনের ইউনানের একটি আধা শহরে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে ভারতীয় গোয়েন্দারা খবর পেয়েছেন, পরেশকে দিন চারেক আগে টেকনাফ দিয়ে পরেশকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম। রাখা হয় ডিজিসিআই দফতরের অদূরে জিইসি মোড়ের ‘হারবার ভিউ’ হোটেলে। ১৪ ডিসেম্বর, রবিবার তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায়। সেখানে বনানীর ৫ নম্বর রোডে ডিজিএফআই-য়ের নজরবন্দীতে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে তোলা হয়েছে। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন গোলাম আজমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবদুল্লাহিল আমান আজমি এবং মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী। এই রেজ্জাকুল চৌধুরী ছিলেন পরেশের আর্মস সাপ্লায়ার। চিন থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সোজা অসমে পরেশের হাতে চলে যেত ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র। চট্টগ্রামের শিল্প দফতরের জেটিতে ১০ ট্রাক অস্ত্র খালাস মামলায় পরেশের সঙ্গে রেজ্জাকুল হায়দারও আসামী ছিলেন। আর ইউনূস দায়িত্ব নিয়ে তাঁকে বেকাসুর খালাস করে দেন। ভারতীয় গোয়েন্দারা খবর পেয়েছেন, খালাস হওয়ার দিন কয়েক আগে বাংলাদেশের জঙ্গিদের জন্য আবারও অস্ত্রশস্ত্র আনার ব্যবস্থা করতে গিয়েছিলেন। এই রেজ্জাকুল হায়দারের সঙ্গে পরেশ বড়ুয়ার আলোচনার খবরে উদ্বেগ বেড়েছে দিল্লির।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post