কট্টরপন্থী উগ্রবাদীদের গোপন ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশে ঘটে যায় বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থান। আর সেই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আর তার জায়গায় অন্তর্ভুক্তি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়ে ক্ষমতায় আসেন ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস। সেনাবাহিনী ও জামাতে ইসলামীর ইচ্ছা অনুসারে গঠিত এই সরকারের মাথার উপর ছায়া হয়ে রইল বিএনপি সহ বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল।
সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে এ সরকারের শাসন কাজ শুরু হলে দেশের জনগণ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, কিন্তু সরকার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার পরে স্বপ্ন ভঙ্গ করেছে দিনের পর দিন। এর মাঝেই জাতিসংঘ পা রাখছে বাংলাদেশে।
বিপুল সংখ্যক জনসমর্থন নিয়ে এই সরকারের মাথায় বসা মোঃ ইউনুসের ওপর সাধারণ জনগণের তিনটি দাবি ছিল। এক জুলাই অভ্যুত্থানের সংঘটিত সমস্ত অপরাধের বিচার করা, দুই দেশের রাজনীতি বা সরকার ব্যবস্থায় আমল পরিবর্তন বা সংস্কার। এবং তিন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পুনরুদ্ধার করা। কিন্তু সরকারের শাসন শুরু হওয়ার পরে দেশের সংস্কার বোতলে শুরু হল মব। শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলি মোহাম্মদ ইউনুসের জমানায় দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ধীরে ধীরে অচল হয়েছে। বাংলাদেশের আনা যেখানে শুরু হল আন্দোলন বিক্ষোভ অত্যাচার। এক কথায় সরকারের ওপর করা তিনটি দাবির ভিত্তিতে সাধারণ জনগণ যে স্বপ্ন দেখেছিল তার ভগ্ন দশা শুরু হয়ে গিয়েছিল শাসনকার্যে শুরু থেকেই। আর এর মাঝে বাংলাদেশের মাটিতে এবার পা রাখতে চলেছে জাতিসংঘ।
তিন বছরের জন্য ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনের একটি মিশন অফিস চালু করার পক্ষে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দেওয়া হয়।বৈঠকের পর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “ইউএনওএইচসিএইচআরের হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের একটা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।ওনাদের সঙ্গে আমাদের সরকারের আলোচনা চলছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক একটা অফিস বাংলাদেশে হবে,এ আলোচনা চলছিল। আজ এর একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।”
মূলত অফিসটি হবে তিন বছরের জন্য। দ্বিতীয় বছরে দুই পক্ষ মত অনুযায়ী রিনিউ হওয়া দরকার হলে তবে সেটা করা সম্ভব হলেও জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদে খসড়া এমওইউ বা সমঝোতা স্মারক নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে। কয়েকজন উপদেষ্টা মিলে এটা পরীক্ষা করা হবে। চূড়ান্ত খসড়া ভলকার তুর্ককে পাঠানো হবে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে।এর ভিত্তিতে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক একটা অফিস তৈরির সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে।পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষ মনে করলে কার্যালয়ের মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়াও সম্ভব।












Discussion about this post