সম্প্রতি বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস জাতিসংঘের বৈঠকে অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিনিধি দলে কজন ছিলেন জানেন? ১০৪ জন।এক বছর আগে মোহাম্মদ ইউনুস তাঁর আমেরিকা সফরে ৫৭ জন প্রতিনিধি নিয়ে গিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙলেন ১০৪ প্রতিনিধি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে। এই প্রতিনিধি দলে প্রায় ছ জন উপদেষ্টাও ছিলেন যদিও নিউ ইয়র্ক ঘুরে বেড়ানো ছাড়া তাঁদের অন্য কোনো কাজ ছিলোনা। ছ জন শীর্ষ আমলাও এই দলে ছিলেন। তাঁদেরও কোনো কাজ ছিলোনা। পররাষ্ট্র দপ্তরের তেরোজন অফিসার এই দলের সঙ্গে ছিলেন। একজন বা দুজন অফিসার দিয়ে যেখানে কাজ সামলানো সম্ভব, দিনান্তে একটি বা দুটি প্রেস রিলিজ দিয়ে যাদের কাজ শেষ সেখানে তেরোজন! বাড়াবাড়ির চূড়ান্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এই দলটি এবং মোহাম্মদ ইউনুস এর নিরাপতার জন্যে ছিলেন ১৯ জন। এই বিষয়টি তবু মানা যায়। কিন্তু মিডিয়া টিম এ ৪১ জন কি করছিলেন তা জানা নেই। এটি ছিল মিডিয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যার প্রতিনিধি দল। পেটয়া মিডিয়ার লোকজনে ভর্তি ছিল এই দল। এই মিডিয়া দলে কজন জাতিসংঘের অধিবেশন কভার করেছেন আর কজন হাডসন নদীর শোভা দেখে বিমুগ্দ্ধ হয়েছেন তা বলা কঠিন। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের এই দলে অন্তরাভুক্ত করার পরিকল্পনাটির মধ্যে অভিনবত্ব ছিল। উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো বেশি মজবুত করার। কিন্তু, এই সফরের শেষে দেখা যাচ্ছে ফারাক মেটা তো দূরের কথা। বিএনপি এবং জামাত এর মধ্যেকার সম্পর্ক আরো তিক্ত হয়েছে। এই তিক্ততার মূল হোতা কিন্তু পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহীদ হোসেন।সফরের আগে তাঁর ওপর দায়িত্ব ছিল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি কারা মোহাম্মস ইউনুস এর সফর সঙ্গী হবেন তা ঘোষণা করার। তিনি ঘোষণা করেন যে বি এন পি থেকে দুজন এই সফরে যাবেন। প্রতিবাদ জানায় জামাত ও এন সি পি। তাদের একজন করে প্রতিনিধির নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় যে জামাত এর দুজন ও এনসিলির দুজন করে প্রতিনিধি এই সফরে যাবেন। তৌহীদ হোসেন এর এই ভুল ইচ্ছাকৃত কিনা সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে আরম্ভ করেছে। তৌহীদ হোসেন এর টেবিল এ যে কোনো ফাইল এলে তা তিনি পড়ে দেখেননা। কাজ তো দূরের কথা! পররাষ্ট্র উপদেষ্টার অনুগত্য শেখ হাসিনার প্রতি কিমা তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং উঠছে। বি এন পির চেয়ার পার্সন তারেক রহমান কে এই সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি বাক্তিগত কারণ দেখিয়ে তাঁর অপারগতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থন্স করে দলের মহাসচিব মির্জা ফকরুল আলমগীর এর নাম সুপারিশ করেন। আলমগীর অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসারত বলে চেয়ারপারসন এর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এর নাম উঠে আসে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহীদ হোসেন এর ভাস্য অনুযায়ী – এর জনেই বিভ্রান্তির সূচনা হয়। তৌহীদ হোসেন যাই বলুন, মোহাম্মদ ইউনুস এর আমলে দেশে দুর্নীতির পরিমান আকাশছোঁয়া হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভাষণ দিয়ে একদিন ক্ষমতার অলিন্দে বসেছিলেন ইউনুস। আজ দুর্নীতি বাংলাদেশ কে গ্রাস করেছে। সরকারি একটি উচ্চপদে বসার জন্যে ঘুষ দিতে হচ্ছে আশি কোটি টাকা। ঘুষ এখন বাংলাদেশে প্রচলিত একটি পদ্ধতি হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সরব ছাত্র দলের নেতা নাহিদ ইসলাম একাত্তর টিভি কে বলেছেন – কিছু কিছু উপদেষ্টা আমাদের এবং দেশের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং করছেন। এঁরা ক্ষমতা পেয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। ছাত্র দলের উচিত হয়নি উপদেষ্টা মণ্ডলীতে যাওয়া। নাভেদ নিজে উপদেষ্টা মণ্ডলীতে যোগ দিলেও পড়ে ইস্তফা দিয়ে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল খোলেন। তাঁর মতে, ইউনুস ভালো লোক। কিন্তু, তাঁকে ঘিরে রেখেছে একদল ক্ষমতা লোভী মানুষ। বাঘের পিঠে সওযার হয়েছেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতি বিদ, এখন বাঘ না তাঁকে পিঠ থেকে ঝেড়ে ফেলে দেয়!
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post