বৃহস্পতিবার ঘোষণা হয়ে গেল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ। ভোট আগামী বছর ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে নেওয়া হবে গণভোট। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে সে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসিরুদ্দিন ভোটের তারিখ ঘোষণা করেন। এই দিনটার জন্য ভারত তো বটেই, আন্তর্জাতিকমহল দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিল। তাঁরকারণও আছে। খবর ছড়িয়ে পড়ে যে ইউনূস সরকার নির্বাচনে যাবেন না। তিনি চাইবেন যে কোনও মূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে। তার জন্য তাঁর অবশ্য সঙ্গী-সাথীর অভাব ছিল না। কিন্তু তাদের সব আশা কার্যত জলে চলে গেল। এখন মূল প্রশ্ন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন? তদারকি সরকার তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও সুযোগ আপাতত দৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু তাতে ইউনূসের বিপদ সব থেকে বেশি। কেন বেশি, তা কিন্তু গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সে দেশের বুকে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনা জ্বলন্ত উদাহরণ। সব থেকে বেশি বিপদ মৌলবাদী শক্তির বাড়বাড়ন্ত। যে ইউনূসকে তারা কোলে টেনে এতদিন ধরে দোল খাইয়েছে, খাতির যত্ন করেছে, সেই মৌলবাদী শক্তি কিন্তু তাঁকে গিলে খাবে। এখনও পর্যন্ত পদ্মাপারের যা পরিস্থিতি তাতে, ১২ তারিখের ভোটে তারা যে দাপাদাপি করবে, তা ধরে নেওয়া যেতে পারে। সেই শক্তিকে প্রতিহত করার মাজার জোর ইউনূসের নেই। যে ইউনূস মনে করেছিলেন, আওয়ামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রেখে ভালো হবে, তিনি এখন বেশ বুঝতে পারছেন কত ধানে কত চাল।
শুধু কি তারা? পাকিস্তানের কথাই বা বাদ দেওয়া যায় কী করে? পাকিস্তানও তো মনে মনে চাইছে ইউনূস একবার ভোট জয়ী হয়ে ক্ষমতার মসনদে আসীন হোক। তারপর তারা তাঁকে যমুনাভবন থেকে তাড়িয়ে দেশছাড়া করে ছাড়বে। ফলে, ইউনূসের সামনে বিপদ, পিছনে বিপদ। বিপদ তাঁর ডানদিকে, বাঁদিকে। সেই বিপদ থেকে তাঁকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র আওয়ামী লীগ। জামায়াত কিন্তু বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনও পর্যন্ত যেকটি সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, জামায়াতের ক্ষমতা আগের থেকে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন শাঁখের করাত হয়ে উঠেছে। পদ্মাপারে এখন যে হাওয়া বইছে, সেই হাওয়ায় তারা বহু আসনে জয়ী হতে পারে, এমনটা ধরে নেওয়া অবাস্তব কিছু নয়। এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে, তারা হয়তো ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু সেই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে সমমনোভাবাপন্ন দলগুলির সঙ্গে হাত মেলাতে পারে। তারাও কিন্তু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছে। দুইয়ে-দুইয়ে একবার চার হয়ে গেলে ইউনূসকে যে তারা গদি থেকে টেনে নামিয়ে দেবে, সেটা তো এখন থেকেই প্রবলভাবে দৃশ্যমান। এই ক্ষেত্রে পাকিস্তান নির্দিধায় একটা নির্ণানয়ক ভূমিকা নেবে সে বিষয়ে নিশ্চিত বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলের একাংশ।
বাংলাদেশের নির্বাচনে দুটি শক্তি অদৃশ্য লড়াই চালাবে। এই লডা়ই বাংলাদেশপন্থী বনাম বাংলাদেশবিরোধী। কোন গোষ্ঠীতে কারা রয়েছে, তা আর নতুন করে বলার দরকার নেই। বাংলাদেশ-বিরোধীশক্তি কিন্তু মনেপ্রাণে ইউনূসকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে চাইবে। বিগত দেড় বছরে তারা যে সব স্বার্থ পূরণ করতে পারেনি, তারা আগামীদিনে সেই সব স্বার্থ পূরণ করবে। তাই, আওয়ামী লীগ এখন ইউনূসের বাঁচার অক্সিজেন। আইসিসিইউ থেকে তাঁর সুস্থ জীবনে ফিরে যাওয়ার একটাই রাস্তা – নির্বাচনের দরজা আওয়ামী লীগের জন্য খুলে দেওয়া। আর না দিলে আওয়ামী লীগের ৭০ শতাংশ ভোট কিন্তু খেলা ঘুরিয়ে দেবে। সেটা ইউনূসের কাছে সেটা আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post