ভারতের আশ্রয় ছেড়ে এবার রাশিয়ায় শেখ হাসিনা তবে কি রাজনীতির অন্য খেলা শুরু সম্প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট বলেছিলেন, যতদিন ইচ্ছা ততদিন শেখ হাসিনা ভারতে থাকতে পারেন। হাসিনা তার নিজের দেশে ফিরবে কিনা সেটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু তারপরেও এমন সিদ্ধান্ত কেন তাহলে কি হাসিনা এখন ভারতে নিরাপদ নন
সম্প্রতি দু দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিয়ম ভেঙে তার বন্ধু পুতিনকে অভ্যর্থনা জানাতে নিজে গেছিলেন বিমানবন্দরে। ভারতের তরফে পুতিনকে যে পরিমান খাতির করা হয়েছে বিগত সময়ে ভারতের তরফে কোনও রাষ্ট্রপ্রধানকে এ ধরণের খাতিরের নজির নেই। এর মাধ্যমে আমেরিকাকে ভারত বুঝিয়ে দিল যে ভারত – রাশিয়ার বন্ধুত্ব সেই আগের মতোই রয়েছে। পুতিনের ভারত সফরের সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া – ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে বিশ্বের বাকি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যখন নাজেহাল ও পুতিনের সাথে দর কষাকষির খেলায় ব্যস্ত ঠিক সেই আবহেই পুতিন ভারতে সফর করে বুঝিয়ে দিলেন এইসব কিছুকে তিনি তোয়াক্কা করেন না।
এক মহাশক্তিধর দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যখন অন্য আর এক মহাশক্তিধর দেশ ভারতে সফর করছেন ঠিক তখনি কাকতালীয়ভাবে সেখানে অবস্থান করছেন অন্য আর এক দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, অর্থাৎ মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। অপরদিকে এই রাশিয়া এবং বাংলাদেশ একে অপরের ভালো বন্ধু। হাসিনার সাথে পুতিনের সম্পর্কও যথেষ্ট ভালো। এমনকি রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের রূপপুরে একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রও তৈরি করা হয়েছে। ফলে ভারত সফরে এসে দুই বন্ধুর দেখা হওয়া ও কথা হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। অনেকেই বলছেন, পুতিন ও হাসিনার মাঝে ১৭ মিনিটের একটা বৈঠক হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামীলীগের সমর্থকদের পোস্ট দেখে মানুষের ধারণ যে পুতিন হাসিনার সাথে বৈঠক করতেই ভারতে সফরে এসেছেন। পুতিন হাসিনাকে আশস্ত করেছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন হাসিনা ই। ফলে আওয়ামীলীগের কর্মী – সমর্থকদের ধারণা হাসিনার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাটা শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
ভারত – রাশিয়া ও বাংলাদেশ ভাই ভাই। সাথে শেখ হাসিনার সাথে পুতিনের যতই ভালো সম্পর্ক থাকুক না কেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনতার দ্বারা ক্ষমতাচুত্য হয়েছেন। ফলে একটি ক্ষুদ্র দেশের একজন ক্ষমতাচুত্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিশ্চই মহাশক্তিধর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বৈঠক করবেন না। কিন্তু পুতিন – মোদী – হাসিনা কে নিয়ে এমন আবহ তৈরী করেছে আওয়ামীলীগের সমর্থকেরা তাতে মানুষের মনে প্রশ্ন জন্মাচ্ছে যে, তাহলে কি পুতিন আর মোদী মিলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, মোদী ও পুতিনের বৈঠকটি কি শুধুই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাক্ষাৎকার পশ্চিমা বিশ্বের চোখে চোখ রেখে শক্তির জানান দেওয়া। শেখ হাসিনার পুতিনের সাথে বৈঠক হোক আর না হোক সারা বিশ্বের কাছে ভারত প্রমান করে দিয়েছে ভারত তার বন্ধু হাসিনাকে ছাড়ছে না। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই চাপে পড়লেন ইউনুস।












Discussion about this post