পাক ক্রিকেটের ব্লু-আইড বয়ের কি মৃত্যু হয়ছে? তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি জেলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের নেতার। আফগানিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমে একই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, মৃতদেহ গোপনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের আদিয়ালা জেল বিবৃতি দিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে ইমরানের মৃত্যুর খবর ভিত্তিহীন। তবে গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তান জুড়ে এই জল্পনাও ছড়িয়ে যায় যে গোপনে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। সেই ভাবনাতেও জল ঢেলেছে জেল কর্তৃপক্ষ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আদিয়ালা জেল থেকে ইমরানকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার খবর সঠিক নয়।’ একই সঙ্গে লেখা হয়েছে, ‘তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন। প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা পাচ্ছেন।’
ইমরান ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফও। তবে খোঁচাও দিয়েছেন। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ওঁর জন্য জেলে কী কী ধরনের খাবার আসে সেটা দেখুন। এই সব খাবার ফাইভস্টার হোটেলেও পাওয়া যায় না।’ জেলে ইমরানের জন্য টিভি দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তাঁদের আমলে জেলের অবস্থার কথাও উল্লেখ করেন। খোয়াজা আসিফ বলেন, ‘আমাদের জেলে ঠাণ্ডা মেঝেতে শুতে হত। কী ঠাণ্ডা, কী গরমে। স্নান করতে হত ঠাণ্ডা জলে। এমনকী শীতকালেও। জেল থেকে যে খাবার আমাদের দেওয়া হত, সেই খাবার খাওয়া ছাড়া আমাদের কোনও উপায় ছিল না। ’ খোয়াজা আসিফ বলেন, ইমরানকে মেঝেতে ঘুমাতে হচ্ছে না। দেওয়া হয়েছে খাট। ঠাণ্ডা যাতে না লাগে তার জন্য দেওয়া হয়েছে কম্বল।
এদিকে, ইমরানের দিদি নুরা খানের অভিযোগ, তার দাদাকে জেলে অমানবিকভাবে রাখা হয়েছে। বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে না। পাক কাপ্তানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পডতেই ইমরানের পরিবার জেল কর্তৃপক্ষকে জানায়, তারা তাঁর (ইমরানের) সঙ্গে দেখা করতে চাইছে। অনুমতি দেওয়া হোক। সূত্রের খবর পরিস্থিতির চাপে পড়ে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ ইমরানের সঙ্গে তাঁর পরিবারকে দেখা করার অনুমতি দিয়েছে। সপ্তাহে তারা দুদিন দেখা করতে পারবেন। মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার।
এর আগে গত ১৯ নভেম্বর ইমরানের তিন বোন আলিমা, উজমা এবং নুরা তাদের দাদার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। প্রতিবাদে তারা ধর্নায় বসেন। অভিযোগ ধর্না চলাকালীন তাদের শারীরিকভাবে হেনস্তাও করা হয়। ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন পিটিআইয়ের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর। তাদেরও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এর পর থেকে কে বা কারা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, আদিয়ালা জেলে মৃত্যু হয়েছে পাক-কাপ্তানের। তাতে পাক সরকার এবং জেল কর্তৃপক্ষ চাপে পড়ে যায়। বাধ্য হয় বিবৃতি দিতে।
ইমরানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে তিনি জেলবন্দি। চলতি বছরের গোড়ায় আল কাদির দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে তাঁকে ১৪ বছরের জেলের সাজা দিয়েছে আদালত। একই মামলায় সাজা হয়েছে তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির। সে দেশের জেল আইন অনুযায়ী, সপ্তাহে একবার পরিবারের লোকের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন ইমরান। কিন্তু দেশটার নাম যে পাকিস্তান। তারা আবার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করবে, এটা ভেবে নেওয়াটাই ভুল। কিন্তু চাপ পড়লে তখন নরম হয়। যেমন হল এই বার।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post