আচমকাই সীমান্তে সামরিক তৎপরতা শুরু করে দিল ভারতীয় সেনা। কুয়াশামাখা উত্তরবঙ্গের আকাশে চক্কর কাটতে থাকে বাহিনীর চপার। ধুবড়ি, কিশানগঞ্জ এবং চোপড়া। এই তিন শহর কার্যত সেনাবাহিনীর দখলে। তিন অঞ্চলেই রাখা হয়েছে সামরিক গোলাবারুদ। রয়েছে ট্যাঙ্ক। তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী ছাউনি। সেখানে রয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান রাফালে। রয়েছে ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র, টি-৯০ ট্যাঙ্ক এবং রাশিয়ার এস ফোরহান্ড্রেড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দিল্লির তরফ থেকে সরকারি বয়ানে এই মহড়াকে রুটিন মহড়া বলা হলেও। সমর বিশেষজ্ঞরা কিন্তু মহড়াকে অন্য চোখে দেখছে। তাঁদের মতে, এটা একেবারেই সামরিক মহড়া নয়। যে তিনটি জায়গায় অস্থায়ী সেনা ছাউনি তৈরি করা হয়েছে, লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এই তিন অস্থায়ী সেনাছাউনির খুব কাছে শিলিগুড়ির চিকেনস নেক। এই তিন জায়গায় ভারতীয় সেনার অস্থায়ী ছাউনি কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশল বদলে দিয়েছে। প্রশ্ন হল সরকারিভাবে এই অস্থায়ী ছাউনি নিয়ে যে বয়ান দেওয়া হয়েছে, তা বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শুধুমাত্র চিকেন নেককে রক্ষা করতেই কি এই তিন জায়গায় অস্থায়ী সেনাছাউনি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে যুদ্ধবিমানকে স্ট্যান্টবাই থাকার কথা বলা হয়েছে কি একই কারণে? সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকেন নেক রক্ষা করা এই সামরিক তৎপরতার প্রথম এবং প্রধান উদ্দেশ্যে হলেও সেনাভবন থেকে বাংলাদেশকে বার্তা দেওয়া হল ভারত শুধুমাত্র নিজেকে রক্ষার জন্য প্রস্তুত নয়, আত্মরক্ষার জন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যেতে হলে ভারত দ্বিতীয়বার চিন্তা করবে না।
এই সামরিক তৎপরাতা নিয়ে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভারতের সীমান্তে এই ধরনের মোতায়েন দক্ষিণ এশিয়ার পাওয়ার প্রোজেকশনের অংশ। এটি সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশের ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগের কৌশল। ওই দেশকে কেন্দ্র করে সাউথব্লক তাদের সামরিক কৌশল বদলে ফেলেছে।’ এর কারণ হিসেবে বেশ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমটি হল বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের হৃদ্যতা।
ভারত তো বটেই, গোটা দুনিয়া জেনে গিয়েছে যে পাকিস্তানের সঙ্গে সে দেশের দোস্তির কথা। আর তাদের সঙ্গে ভারতের কুস্তির কথা। এই দোস্তি আর কুস্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে সাউথব্লকের একটি উদ্বেগ। হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর সাউথব্লক বুঝে যায় যে সে দেশের ওপর তারা আর কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে পাকিস্তান। অপর দিকে আমেরিকার সঙ্গে ভারসাম্যের নীতি নিয়েছে বাংলাদেশ । এখন ঢাকা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিচ্ছে। ফলে, ঢাকা যে কোনও সময় আগ্রাসী হয়ে উঠলে তাদের সেই আগ্রাসনকে যাতে প্রতিহত করা যায়, উপযুক্ত জবাব দেওয়া যায় এবং জবাব দিতে যাতে বিন্দুমাত্র দেরি না হয়, তার জন্য এই তিন জায়গায় সেনাভবন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চাইছে। এর সঙ্গে রয়েছে চিনের ছায়া। বাংলাদেশের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক আগের থেকে বেশ মধুর। বেজিং ঢাকায় বিনিয়োগ করেছে। ফলে, অদূর ভবিষ্যতে উত্তরপাড়া বা যমুনাভবন থেকে বেজিংয়ের সাহায্য চাওয়া হলে বেজিং মুখ ফেরাবে না সেটা প্রায় নিশ্চিত সাউথব্লক। ফলে, সে কারণেও সেনাভবন আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চাইছে। চিনের ছায়া, পাকিস্তানের হাত আর তুরস্কের আগ্রহ – এই তিন শক্তি এখন সাউথব্লকের উদ্বেগ বাডিয়েছে।
তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় যে সাউথব্লক থেকে পদ্মাপারে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশ কাদের কাছে সাহায্য চাইবে? সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন ঢাকাকে বাঁচাতে পাঁচটি দেশ যৌথভাবে ময়দানে নেমে পড়বে। সেই পাঁচটি দেশ হল চিন, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া। সুতরাং, বাংলাদেশকে যথাসম্ভব চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে সাউথব্লক।












Discussion about this post