প্রথমে কাতার। সেখান থেকে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে ভারতে। ত্রিভূজ সফর খলিলুর রহমানের। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অজিত ডোভাল-খলিলুর বৈঠকের আগে ডোভাল দিল্লিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গারোর সঙ্গে বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে কাতারে যে বৈঠকে খলিলুর ছিলেন, সেই বৈঠকে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের দুঁদে আমলারা, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার দুঁদে কর্তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন পদস্থ কর্তাও ছিলেন ওই বৈঠকে। খলিলুরের কাতার সফর চারদিনের। প্রশ্ন উঠছে, এই বৈঠকের বিষয়বস্তু কী? সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনে যাতে সব রাজনৈতিকদল অংশ নিতে পারে, তার জন্য খলিলুরকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। দিল্লিতে ডোভালের সঙ্গে বহু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তুলে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু নথি, যে নথি ঢাকাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে পদ্মাপারে সীমান্তের কাছাকাছি তিন জেলায় ইসলামি মৌলবাদীদের ঘাঁটি রয়েছে। ওই সব ঘাঁটি থেকে ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে। খলিলুরকে এও বলা হয়, এর আগেও তাদের পইপই করে বলা হয়েছিল, যে তারা যেন ওই সব জঙ্গি শিবির নিউট্রালাইজ করে দেয়। সেটা ঢাকা করেনি। তাই, আরও একবার তাদের এই বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হল। আগামী ছয় কার্যদিবসের মধ্যে ওই সব জঙ্গি শিবির নিষ্ক্রিয় করে দিতে হবে। তার রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠাতে হবে।
জানা গিয়েছে, ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর বেশ কয়েকটি ছবি দেখান। সে সব ছবি হল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের চারটি এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে জঙ্গি শিবিরগুলি নিষ্ক্রিয় করেছে। এই ছবি নিয়ে যাওয়ার কারণ এটা প্রমাণ করা যে দিল্লি থেকে এই বিষয়ে তাদের যা করতে বলা হয়েছিল, তারা সেটা করেছে। অর্থাৎ অ্যাক্টেড অ্যাকোর্ডিংলি। সেই ছবি দেখে ডোভাল হ্যা বা না কিছুই বলেননি। চাঞ্চল্যকর খবর হল, গত ১৪ মাসে বিশেষ একটি দেশের ১৭ জন গোয়েন্দা খুন হয়ে গিয়েছেন।
তবে বৈঠকে প্রাধান্য দেওয়া হয় বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের ওপর। বার্তা দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের। ওই দলের বহু নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জলে। খলিলুরের সঙ্গে বৈঠকে ডোভাল জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। আর ওই যে সব নেতাকে বিভিন্ন জেলে আটকে রাখা হয়েছে, তাদের মুক্তি দিতে হবে। প্রত্যাহার করে নিতে হবে মামলা। কথা হয় হাসিনাকে দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রায় নিয়ে। সাউথব্লকের তরফ থেকে ঢাকার দূতকে বলা হয়েছে, প্রথমত এই আদালতের কোনও বৈধতা নেই। আর এই রায় কোনও বিচারের মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য নয়।
খলিলুর কাতার যান। সেখানে বৈঠক করেন। বৈঠকে আশ্বাস দেন দেশে ফিরে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটা তিনি কার্যকর করবেন। কিন্তু দেশে ফিরলেই পাল্টি খেয়ে যান খলিলুর। কারণ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণের বড়ো বাধা ইউনূস। তাঁর বিশ্বাস যেহেতু জামাত তাঁর মেরুদণ্ড, তাই তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। এই খবর যখন লেখা হচ্ছে, সেই সময় রাজস্থানের কাছে সীমান্তে ভারত-আমেরিকা যৌথ সেনামহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। ধরে নেওয়া যেতে পারে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কিছু একটা ঘটে যাবে। আমরা ভালো খবর পাওয়ার প্রত্যাশায় রইলাম।












Discussion about this post