তদারকি সরকারকে এবার সাঁড়াশি চাপে ফেলতে চলেছে আওয়ামী লীগ। তারা ডাক দিয়েছে ‘বাংলাদেশ ঘেরাও কর্মসূচির।’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। কর্মসূচি অনুযায়ী, তারা রাজধানী ঢাকা অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবরুদ্ধ করবে বাংলাদেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর। এমনকী পঞ্চায়েতস্তরেও তাদের এই কর্মসূচি চলবে।
আওয়ামী লীগ তাদের ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচির ঘোষণা করতে গিয়ে জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) দেওয়া রায় ইউনূস এবং তাঁর সরকারের প্রতিহিংসাপরায়ন রাজনীতির প্রতিচ্ছবি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে দল যাতে নির্বাচনে কোনওভাবেই অংশ নিতে না পারে, তার জন্য আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হাসিনা এবং তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আইসিটিমৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এই রায় আওয়ামী লীগ অস্বীকার করে। চায় ইউনূসের পদত্যাগ। ইউনূসের ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আন্দোলন বন্ধ হবে না। ’
দলের ফেসবুক পেজে এও বলা হয়েছে, ‘এই রায় শুধু আওয়ামী লীগ অস্বীকার করে না। অস্বীকার করছে গোটা দেশ। বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতেই এই রায়। এই আইসিটি যেমন অবৈধ, তাদের রায়ও অবৈধ। বিচারের নামে উপহাস করা হয়েছে।’ ফেসবুক পেজে আসন্ন নির্বাচন নিয়েও আওয়ামী লীগ মন্তব্য করেছে। দলের তরফে বলা হয়েছে ‘আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আসলে একটা সাজানো চিত্রনাট্য। আওয়ামী লীগ ওই সাজানো নির্বাচন কোনওভাবেই হতে দেবে না। যে কোনও মূল্যে দল ওই নির্বাচন প্রতিহত করবে।’ তাদের স্লোগান ‘ইউনূস হঠাও, দেশ বাঁচাও।’ আওয়ামী লীগের এই ঘোষণায় ইউনূস সরকার রীতিমতো চাপে পড়ে গিয়েছে।
গত বছরের অগস্টে আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পরে ভারতে সাময়িক আশ্রয় নেন হাসিনা। তার পরে হাসিনার বিরুদ্ধে বিবিধ মামলা শুরু হয় বাংলাদেশে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মামলা হল গত বছরের জুলাই-অগস্টে ছাত্রজনতার আন্দোলনের সময়ে গণহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা। ওই মামলায় হাসিনাকে ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে সে দেশের ট্রাইবুনাল। এ বার প্লট বণ্টন সংক্রান্ত মামলাতেও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করল ঢাকার আদালত।
এদিকে, হাসিনার নামে থাকা দুটি লোকার খোলা হয়েছে বাংলাদেশে। দুটি লকার আগেই বাজেয়াপ্ত করেছে সে দেশের কর্তৃপক্ষ। আদালতের অনুমতি নিয়ে আগেই দুটি লকার আগেই বাজেয়াপ্ত করেছে সরকার। বাংলাদেশের অগ্রণী ব্যাঙ্কে ওই দুটি লকার ছিল হাসিনার। এই দুটি লকার ছাড়াও হাসিনার নামে থাকা আরও একটি লকার সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে। সেটি রয়েছে বাংলাদেশের পূবালী ব্যাঙ্কে।
গত সেপ্টেম্বরে অগ্রণী ব্যাঙ্কের দুটি লকার বাজেয়াপ্ত করেন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হাসিনার নামে থাকা বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করেছে তদারকি সরকার। এই লকার প্রসঙ্গে হাসিনা জানিয়েছেন, ‘আমার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা মিথ্যে। আমার নামে কোনও ব্যাঙ্কের লকারে কোনও সোনা নেই। তাও যদি তদারকি সরকারের তরফে বলা হয় সোনাগুলি আমার, সে ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ ওই সোনাগুলি বিক্রি করে করাইল বস্তিতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের মধ্য ওই সোনা বিক্রি করে প্রাপ্য অর্থ বিলি করা হোক। ’ আওয়ামী লীগের দাবি এটা আসলে সাজানো নাটক। হাসিনাকে হেনস্তা করতে, তার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে সরকার লকারে সোনা রেখে এখন তাদের দলনেত্রীর ওপর দোষ চাপাতে চাইছে।












Discussion about this post