বাংলাদেশের তদারকি সরকার একটা বন্দর পুরোপুরি বেচে দিয়েছে। আরও একটা বিক্রি করে দিয়েছিল। কিন্তু সেটা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হওয়ায় বেচাকেনা ঝুলে রয়েছে। সেই মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ৪ ডিসেম্বর। রায় দেবেন বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি ফাতেমা আনওয়ারের ডিভিশন বেঞ্চ। কোন বন্দর পুরোপুরি বেচতে সফল হয়েছেন সে শান্তিবাবু ইউনূস? লালদিয়া। আর আদালতে ঝুলে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। এই টার্মিনাল নিয়ে কিছু কথা।
এনসিটিকে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসেন। মামলা দায়ের হয় গত ৩০ জুলাই। গত ১৩ নভেম্বর বিচারপতি নজীব এবং বিচারপতি আনওয়ারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, তারা এই মামলার শুনানি গ্রহণ করবে ১৯ নভেম্বর। পরের দিন তদারকি সরকারের জন্য ডিভিশন বেঞ্চ হুলিয়া জারি করে। জানিয়ে দেয়, চুক্তি সংক্রান্ত সব ধরনের কাজ আপাতত স্থগিত রাখতে হবে। হাইকোর্টের এই রায়ে ইউনূসের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে।
আর চট্টগ্রামের লালদিয়া বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে নেওয়া বেশ চাপে পড়ে গিয়েছেন শান্তিদা ইউনূস। তাঁর সরকারের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও অপর অংশ কিন্তু রীতিমতো ফুঁসছে। রাজপথে বিক্ষোভও হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, পতেঙ্গায় লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা করবে ডেনমার্কের মায়ের্সক গ্রুপের এপিএম টার্মিনালস। চুক্তির কয়েকটি তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মূল কনসেশন চুক্তিটি ৩৩ বছরের। এর মধ্যে তিন বছর তারা বন্দরের পরিকাঠামো উন্নত করবে। বাকি ৩০ বছর তারা বন্দর পরিচালনা করবে। শর্ত পূরণ হলে চুক্তির মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়িয়ে নেওয়ার সংস্থান রয়েছে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, আট লাখ একক কন্টেইনার ওঠানো-নামানো পর্যন্ত প্রতি একক কন্টেইনারে বন্দর কর্তৃপক্ষ পাবে ২১ ডলার। নয় লক্ষের বেশি কন্টেইনার ওঠানামা করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ পাবে কন্টেইনার প্রতি ২৩ ডলার। আবার নয় লক্ষের বেশি কন্টেইনার ওঠানামা করলেও সরকারকে অর্থ দেওয়া হবে। যদিও সেটা কত, চুক্তিতে সে কথা বলা নেই। সরকার কেন এই নিয়ে কিছু বলছে না। সরকারের তরফে বলা হয়েছেন এটা নন ডিসক্লোজার চুক্তি। যেটা আরও বেশি করে উল্লেখ করতে হয় যে হাসিনার বিরুদ্ধে আইসিটি যেদিন রায় ঘোষণা করে সেইদিন তদারকি সরকার বিদেশি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সই করে। আর ঠিক তার আগের দিন তদারকি সরকার তাঁর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে, মানে যাঁরা বিশেষভাবে অজ্ঞ, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বোঝার চেষ্টা করেন বন্দর বেচলে কত টাকা সরকারের ঘরে ঢুকবে। একটা তদারকি সরকার এভাবে বন্দর বিক্রি করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রশ্নে ইউনূস সরকারের জবাব হল পারে।
একদম ঠিক কথা। দেশ তো আগেই বিক্রি হয়েছে। তখনই এই দুই বন্দর বিক্রি হয়ে গিয়েছিলে। এখন সেই বিক্রিতে জুটল সরকারি সিলমোহর। এই বিষয়ে তদারকি সরকার কারও সঙ্গে পরামর্শ করেনি। আর দেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান বা তাঁর বাহিনীর থেকে কোনও বাধা আসেনি। বাধা দেবেন বা কোন মুখে। সেনাপ্রধান তো সরকারের দালালি করছে। জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি কিন্তু সরকারের বন্দর বিক্রি সিদ্ধান্তে রীতিমতো চটে রয়েছে।












Discussion about this post