আমেরিকা বিশ্বের সুপার পাওয়ার দেশ হয়েও, কেন ভারতকে ভয় পায়। অনেকেই প্রথম লাইনটি শুনে হাসবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের কিছু মানুষ। তাদের বলি, ভূ- রাজনীতিতে যারা সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, তাদের অবস্থাটা কি একবার দেখা দরকার। তাই আমেরিকার ভয়ের কারণে আসার আগে, দেখে নিই অন্য ভারত বিরোধী দেশগুলির কি অবস্থা। প্রথমে আসি তুর্কির কথায়। যারা সব সময় ভারতের থেকে সুবিধা নিয়েছে, আর পাকিস্তানের গুনগান করেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। তারা এখন ভারতের হাতে পায়ে ধরছে, তাদের দেশে চাল গম পাঠানোর জন্য। তারা তিন তিন বার চিঠি দিয়ে তাদের দেশের করুন দুরবস্থার কথা বর্ণনা করার পরও, ভারত চুপ থেকেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলি বলছে, এক টুকরো রুটির জন্য তুর্কির মানুষ রাস্তায় রাস্তায় বেকারির সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, একে তো খাদ্য দ্রব্যের মূল্য অনেক বেশী, তার পরও তা পাওয়া যাচ্ছে না। ভারত যদি মানবিক না হয়, সে দেশে খাবারের জন্য হাহাকার পড়ে যাবে। তুর্কির খাদ্যাভাবের বিষয়ে যাদের আরও বেশী জনার ইচ্ছা তারা একটু আন্তর্জাতিক সংবাদগুলিতে তুর্কির করুণ পরিনতির কথা জেনে নিতে পারেন। এর পর আসি বাংলাদেশের কথায়। যারা চাইছিল ভারতের উপর থেকে তাদের নির্ভরতা কমানোর, তারা এখন বুঝতে পারছে তাদের শেষ ভরষাই হল ভারত। সব দেশ তো মুখে বড় বড় কথা বলে কিন্তু অসময়ে পাশে ভারত ছাড়া আর কেউ নেই। তাই ভারত থেকে আগস্টের পর পিয়াজ কেনা বন্ধ করেছিল বাংলাদেশ। ফলে ভারতে যখন পিয়াজ ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা কেজি, তখন বাংলাদেশে একশো ষাট টাকা কেজি। বাংলাদেশের এই অবস্থায় না চিন না পাকিস্তান না তুর্কি, কোন দেশই এগিয়ে আসছে না, বাংলাদেশের এই অভাব মেটাতে। ভারতের আলু লঙ্কা পিয়াজ না পেলে বাংলাদেশে, খাদ্য পণ্যে আগুন লেগে যায়। তাই বাংলাদেশ যখন সরকারী ভাবে ঘোষনা দিল তারা ভারত থেকে পিয়াজ আমদানি করবে, তখনই বাজারে পিয়াজের দাম কমে যায় কেজি প্রতি ত্রিশ টাকা। যখন আমদানী শুরু হবে তখন হয়তো পিয়াজের দাম একশো টাকার কাছাকাছি হয়ে যাবে। আর পাকিস্তানের কথা না বলাই ভালো।সে দেশের মানুষ তো আমেরিকা ইউরোপ আর ভারত এই তিন জায়গায় আসার সুযোগ দিয়ে বেছে নিতে বললে, তারা আগে ভারতকে বেছে নেবে। এবার দেখা যাক আমেরিকা কেন ভারতকে ভয় পাচ্ছে, আসলে ভারতের হাতেই সেই চাবিকাঠি যা দিয়ে শুধু ব্রিকস মুদ্রার ভবিষ্যতই খোলা যাবে তা নয়। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধও বন্ধ করা যাবে। কারণ রাশিয়াকে বা আমেরিকা যুদ্ধের আসল কারণ বোঝাতে পারে এক মাত্র ভারতই। ভারতই বোঝাতে পারে যে এই যুদ্ধের ফলে লাভ হচ্ছে কেবল চিনের। আর রাশিয়া চিনকে কোন দিনই ভরসা করে না। চিন চাই আমেরিকা অন্য কোথাও যুদ্ধে ব্যস্ত থাকুক,যাতে তারা চিনের দিকে কম নজর দিতে পারবে। আর সেই সুযোগে চিন তার অভিষ্ট পূরণ করতে পারে। সেই সঙ্গে যুদ্ধ চললে, রাশিয়ার জন্য চিন অপরিহার্য হয়ে উঠবে। কিন্তু ভারত ছাড়া রাশিয়াকে কে বোঝাতে পারবে যুদ্ধের ফলে আসল লাভ কার। আর চিনের নজর শুধু তাইওয়ানই নয়। রাশিয়ার সাইবেরিয়াও চিনের নজরে। চিন বরাবর চাইছে এই যুদ্ধ চলতে থাকুক আর রাশিয়া সারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, তার উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠুক। যে কারণে চিন ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে মারতে চেয়েছিল, যাতে সবাই ভাবে এই কাজ করছে রাশিয়া। এবং এই যুদ্ধ আর কোন দিনই না থামে। যদিও সেই কাজে ব্যর্থ হয়েছে চিন। কিন্তু পুতিনের ভারত সফরের পরই রাশিয়া এবং আমেরিকার সম্পর্ক ভালো হতে শুরু করেছে। আমেরিকা এখন রাশিয়াকে তাদের প্রধান শত্রু মনে করছে না, তারা বলছে, চিনও তাদের প্রধান শত্রু নয়। প্রধান শত্রু হল চিনের কমিউনিস্ট পার্টি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post