ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবারই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ওই দিনই সন্ধ্যা ৬টায় ঘোষণা করা হবে তফশিল। এই আবহে তফশিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, আন্দোলন পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতকিছুর পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা চোরা স্রোত বইছে। যা অনেক কিছুকেই ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে যে কোনও মুহূর্তে। নানান তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা কয়েকটি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিতে পারে।
এ ক্ষেত্রে প্রথমেই উল্লেখ করা যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি মন্তব্য। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক ভার্চুয়াল ভাষণে তারেক রহমান বলেন, একাত্তরে জামায়াতের যে ভুমিকা ছিল সেটা যেন বাংলাদেশের মানুষ ভুলে না যায়।
প্রায় একই কথা শোনা গিয়েছে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা রুহুল কবীর রিজভীর মুখেও। তিনিও একাত্তরের যুদ্ধে জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এক জনসভায় গিয়ে।
তারেক বা রিজভীর মতো বিএনপির সিনিয়র নেতারা আচমকা জামায়াতকে আক্রমণ শুরু করলেন কেন? কেন তাঁদের মুখে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শোনা যাচ্ছে। এটা নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হলেও ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, বিএনপির এই পরিবর্তন আসন্ন নির্বাচনকে মাথায় রেখেই। ভারত পড়শি দেশের নির্বাচনের দিকে কড়া নজর রাখছে। ভারত কোনও ভাবেই চাইবে না বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসুক বা তাঁদের সমর্থিত কোনও জোট ক্ষমতায় আসুক। তারেক এটা খুব ভালো করেই জানেন। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই তারেক বা রুহুল কবীর রিজভীর এই ভোলবদল। এই বার্তা মূলত ভারতকেই দিতে চাইছে বিএনপি। তাঁরা জানে ভারত কখনই একাত্তরের যুদ্ধে জামায়াতের ভুমিকা ভুলতে চাইবে না।
দ্বিতীয় বিষয়টি হল, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সদ্য শেষ হওয়া একটি বৈঠক। গত ৩ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত ভারত-মার্কিন যৌথ কর্মী গোষ্ঠীর তিনদিনের বৈঠক হয়ে গেল। ওই উভয় পক্ষ সন্ত্রাসী নিয়োগ, সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যে প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের মতো বিস্তৃত উদীয়মান হুমকি এবং চ্যালেঞ্জের পর্যালোচনা করেছে। দুই দেশ প্রশিক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা, সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময় এবং অব্যাহত দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তথ্য ভাগাভাগি সহ চ্যালেঞ্জগুলির বিরুদ্ধে সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত ও আমেরিকা কাউন্টার টেররিজম বা আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কার্যত একযোগে কাজ করার বিষয়ে আবারও সহমত হয়েছে। জাতিসংঘের তালিকায় থাকা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে যেমন এবার অভিযান হবে, তেমনই আরও কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠীকে সেই তালিকায় অন্তর্ভূক্তির বিষয়েও কথা হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে নয়া দিল্লি এবং ওয়াশিংটন দুই পক্ষই সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার জন্য একটি টেকসই এবং ব্যাপক পদ্ধতিতে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে। এটা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে কম্পন ধরানোর জন্য যথেষ্ট। যেটা জানা যাচ্ছে সেটা আরও মারাত্মক। খুব শীঘ্রই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভারতে আসছে উচ্চ পর্যায়ের এক মার্কিন প্রতিনিধি দল। তাঁরা দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে বৈঠক করবেন। তারপর ওই মার্কিন প্রতিনিধি দল ঢাকায় যাবেন। এবারের সফরে পাকিস্তান বাদ। সহজেই অনুমান করা যায়, ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেই মার্কিন প্রতিনিধি দল ঢাকা যাবে। ফলে আসন্ন নির্বাচন ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একটা মার্কিন ঝড় বয়ে যেতে পারে মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর দিয়ে। আর এটা পাকপন্থী জামায়াতে ইসলামীর জন্য সিঁদূরে মেঘের থেকে কম কিছু হবে না।












Discussion about this post