অভাগা যেদিকে যায়, সাগর শুকিয়ে যায়। বর্তমানে এই কথাটি মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য প্রযোজ্য। ইন্টারন্যাশনাল খিলাড়ি মুহাম্মদ ইউনূস বিগত ১৩ মাসে ১৩টি বিদেশ সফর করেছেন। এবার তিনি যাচ্ছেন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বক্তৃতা দিতে। আপনাদের মনে আছে আছে নিশ্চই গত বছর ক্ষমতা হাতে নিয়ে প্রথম বিদেশ সফরটি করেছিলেন এই নিউ ইয়র্কেই। বছর ঘুরলো, তাঁর বিদেশ সফরের চাকাটিও ঘুরলো। বিগত এক বছরে তিনি যতগুলি বিদেশ সফর করেছেন, তা অবশ্যই সরকারি খরচে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠছে, এই সফরগুলি থেকে কি পেল বাংলাদেশ?
এর আগে বাংলাদেশের সরকারি অর্থে মুহাম্মদ ইউনূস যে ১৩টি বিশেষ সফর করেছেন, তা কি আদৌ সরকারি সফর ছিল? কারণ দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ব্যক্তিগত কোনও কারণে সেই দেশ ভিজিট করেছিলেন। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, কাতারের মতো কয়েকটি দেশে তিনি সরকারি সফরই করেছিলেন। বাকিগুলির ক্ষেত্রে তিনি গিয়েছিলেন কোনও সম্মেলনে যোগ দিতে, না হয় কোনও পুরস্কার বা আন্তর্জাতিক সম্মান গ্রহণ করতে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রথমবার নিউ ইয়র্ক যান ইউনূস। সেবার তিনি ওই সভায় ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি ক্লিন্টন ফাউন্ডেশনের আলোচনা চক্রে যোগ দিয়েছিলেন। সেভাবে কোনও দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। আবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি, সেখানেও তিনি বড় কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেননি। এছাড়া ফ্রান্স সফরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করেছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। লন্ডন সফরে তাঁর সঙ্গে দেখাই করেননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, বিশ্ব মঞ্চে তিনি বারবার নাম ডুবিয়েছেন বাংলাদেশের। তাইল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটা সাক্ষাৎ হয়েছিল বটে, সেটাও বহু অনুনয়-বিনয়ের পর মাত্র দশ মিনিটের জন্য। সেই বৈঠকও ছিল নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ।
তাঁর প্রতিটি বিদেশ সফরের শেষেই প্রেস উইং ফলাও করে প্রচার করেন, যে বাংলাদেশের জন্য এত এত বিদেশি বিনিয়োগ, অর্থ সাহায্য আদায় করে এনেছেন প্রধান উপদেষ্টা। কিন্তু সেগুলি সবই ফাঁকা বুলি, বাস্তবে তা আসেনি। এবার তিনি নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন। জানা যাচ্ছে, ওই সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটা বৈঠকের চেষ্টা করছেন। কিন্তু ওয়াইট হাউস সেই প্রস্তাব পত্রপাট নাকচ করেছে। এমনকি নিউ ইয়র্ক সফরে ইউনূসের নিরাপত্তা নিয়েও সুস্পষ্ট কোনও বার্তা দেয়নি হোয়াইট হাউস। যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে হেতু নিউ ইয়র্কে জাতি সংঘের সভায় যাচ্ছেন না, সেহেতু আগামী অক্টোবরে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল খিলাড়ি ইউনূসকে পাত্তাও দিচ্ছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যে মুহাম্মদ ইউনূস পশ্চিমা দেশগুলির মদতপুষ্ট হয়েই বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসেছেন। সেই ইউনূসই বাংলাদেশকে কার্যত কট্টরপন্থী ইসলামিক শক্তিগুলির হাতে সমর্পণ করেছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভারত বিরোধিতা করতে গিয়েও তিনি ডুবিয়েছেন নিজেকে। ফলে এই মুহূর্তে কার্যত একা মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সঙ্গে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানরা দেখা করতে নারাজ। ফলে কয়েকটি ছোটখাটো দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেই নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরে আসবেন প্রফেসর ইউনূস। বাংলাদেশ যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই থাকবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post