শেখ হাসিনার সময় অনেকে অভিযোগ করেছিলেন, দেশে রাজনৈতিক পরিসর নেই। বিরোধীদের কন্ঠ রোধ করা হয়। কিন্তু মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে কি সেই পরিসর আছে? অনেকে বলছেন, যে সরকারের আমলে দেশে সংবাদমাধ্যমের কন্ঠ রোধ করা হয়, সেই দেশে সুষ্ঠ পরিস্থিতি একেবারে নেই। সেটা বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি ইউনূসের স্নেহধন্য দল এনসিপিও এখন গভীর রাজনৈতিক সংকটে। বলা হচ্ছে, গণ পরিষদ, এনসিপি সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলেমিশে একটা দল হয়ে যাবে। কেন এমন পরিস্থিতি? এই রাজনৈতিক দলগুলি কি জনসমর্থন পাচ্ছে না? নাকি তারা একা কাজ করতে পারছে না? আর এর জেরে সুবিধা পাবেন মহম্মদ ইউনূস?
শোনা যাচ্ছে, এনসিপি, গণ পরিষদ সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এরপর একটি দল হয়ে যাবে। অনেক দিন ধরেই এমন বক্তব্য ভেসে আসছিল। এখন সেটা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন। নির্বাচনের হাওয়া বইছে দেশে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জোট বাধার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে একেভূত হওয়ার চেষ্টা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণ পরিষদ সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাদের উদ্দেশ্য, রাজনীতির মাঠে তারুণ্যের শক্তিকে এক করে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলা। এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট অনেকটা এক রকম। এনসিপি তৈরি হয় ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে। অন্যদিকে ২০০৮ সালে কোটা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টির বহু নেতা গণ পরিষদের একসময় নেতা ছিলেন।
বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম খবরে বিষয়টিকে নিয়ে এসেছে। তারা বলছে, এই আলোচনা শুরু হয়। যখন নুরুল হক নূর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এবং সেখানে তাকে দেখতে যান নাহিদ ইসলাম। তখনই নাকি দুই দলের নেতাদের মধ্যে সংগঠন এক করা নিয়ে আলোচনা হয়। এমনকি গণপরিষদ থেকে এনসিপিতে যোগ দেওয়া এক নেতা বলেন, একীভূত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যে নেই। সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই আলোচনা হয়নি এখনও পর্যন্ত।
এমনকি জানা যায়, ডাকসু, জাকসুতে বাগছাসের হারের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি একটু চাপে রয়েছে। তাই তরুণদের দুটি দল যদি এক হতে পারে, তখন এই দলটাকে কেন্দ্র করেই নির্বাচনী জোট হতে পারে। দেশের রাজনীতিতে এটা দরকার। ভিতরে ভিতরে এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
এমনকি দুই দলের একাধিক নেতা নাকি বলেছেন, একীভূত দলের নাম হবে এনসিপি। তবে কাঠামোগতভাবে কিছু পরিবর্তন আসবে। গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেছেন এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা। তবে এ মুহূর্তেই এ নিয়ে নাম প্রকাশ করে কিছু বলতে চাইছেন না তারা। তবে এটা স্পষ্ট হচ্ছে. ডাকসু, জাকসু নির্বাচনের পর এই রাজনৈতিক দলগুলি বিকল্প কিছু ভাবছে, সেটা একেবারে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, এদের সঙ্গে পরবর্তীকালে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল এক হতে পারে। তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ আনিশ আলমগীর একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, শূন্য যতগুলি পাশাপাশি থাকুক না কেন, ফলাফল শূন্যই হয়। এমনকি অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, একটি রাজনৈতিক দল শক্তিশালী হতে গেলে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা সবার আগে পেতে হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে কি আদেও হয়ে উঠেছে এই দলগুলি? এনসিপি এখনও নিবন্ধনই পায়নি। তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ছিল, আর থাকবে। ফলে এখন দেখার, যে আলোচনা চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙিনায়, সেটা সত্যি হয় নাকি!
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post