বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনের উপর খাড়ার ঘা নেমে এল। মহম্মদ ইউনূসের আমলে পুলিশের উপরে জুলুমবাজি চলছে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কয়েকজন পুলিশকে তাদের দায়িত্বে অবহেলার জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের অপরাধ, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে পারেনি। সেই অপরাধ স্বরূপ মোহাম্মদপুর থানার তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ এখনও পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়নি গত ১৩-১৪ মাসে। গত জুলাই অগাষ্ট গণ অভ্যুত্থানের পরে। কারণ বহু থানায় হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি বহু পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়েছে। খুন করা হয়েছে বহু পুলিশ কর্মকর্তাকে। তার মধ্যেই পুলিশের উপর এমন পদক্ষেপ।
জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে মোহাম্মদপুর অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার এ কে এম মেহেদী হাসান সহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। প্রশাসনিক দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের নাকি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জানা যায়, প্রত্যাহার হওয়া আরও দুটি পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক রাকিবুজ্জামান ও উপপরিদর্শক মাসুদুর রহমান। বলা হচ্ছে, ডিএমপির কাছে আগাম গোপন খবর ছিল যে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা ঢাকাতে ঝটিকা মিছিল করবে। ওই খবরের উপর ভিত্তি করে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর নির্দেশে ৮ জন উপকমিশনার ও অন্যান্য ইউনিটের উপকমিশনারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সকাল থেকে তৎপর হন। এমনকি এই খবরও ছিল, যে পুলিশ বাধা দিলে মিছিলের পেছনে থাকা ব্যক্তিরা পুলিশের ওপর ককটেল ও বোমা নিক্ষেপ করতে পারে। তাই আগেভাগেই আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে তারা তৎপর হয়। জানা গিয়েছে, একাধিক কমিশনার তদারকিতে নামেন। পাশাপাশি তারা ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম শুক্রবার বেলাতে মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তিনি পুলিশের দুটি টহল গাড়ি-সহ পাঁচটি গাড়ি থানা কম্পাউন্ড দেখতে পান। অথচ এসব গাড়ি টহলদারিতে থাকার কথা ছিল বলে জানা যায়। এরপরই পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম থানায় গিয়ে দেখেন, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার এ কে এম মেহেদী হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরিদর্শক তদন্ত, পরিদর্শক রাকিবুজ্জামান থানায় বসে রয়েছেন। আর থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানও দায়িত্ব পালন করছেন না।
এরপরই তাদের প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ প্রশাসন কি অন্যভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতো না? অন্য কৌশলে? যাতে কোনওভাবেই পুলিশ প্রশাসনের অন্দরের কথা বাইরে না আসে। এমনতিই জুলাই অগাষ্টে পুলিশের উপর নির্যাতন হয়েছে। প্রচুর পুলিশ আধিকারিক গুম হয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। অনেকে খুন হয়েছে। এমনকি হামলা চালানো হয়েছে বহু থানাতে। তারমধ্যেই অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেও এমন পরিস্থিতি। যেটা কর্মকর্তাদের আরও অত্মবিশ্বাস দমিয়ে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।












Discussion about this post