ইউনূসের আসন্ন জাতিসঙ্ঘ সফর নিয়ে আলোচনা করতে গেলে রসিকতার আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনও রাস্তা থাকে না। তাঁর এই সফর অনেকটা এরকম – মেয়ের বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হয়ে গিয়েছে। কারা কারা কন্যাযাত্রী হবেন, সেটাও ঠিক হয়ে গিয়েছে। অথচ পাত্র দেখা হয়নি।
জাতিসঙ্ঘে ইউনূসের সফর তেমনই। তিনি যাচ্ছেন সেটা ঠিক আছে। কারা কারা তাঁর সফর সঙ্গী হবেন, সেটাও ঠিক হয়ে গিয়েছে। অথচ, ইউনূস কবে রওনা দেবেন, সেটা এখনও ঠিক হয়নি। এমনকী তদারকি সরকারের তরফ থেকেও এই নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে কারা কারা তাঁর সঙ্গে যেমন মানে বরযাত্রী হিসেবে কারা থাকছেন, সেটা চূড়ান্ত। ইউনূসের সঙ্গে যাবেন ফকরুল-তাহেররা। কিন্তু যাবেন কবে?
কোনও কোনও পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে, মহম্মদ ইউনূস রওনা দেবেন ২১ সেপ্টেম্বর। কোনও কোনও পত্রিকার দাবি, ইউনূস রওনা দেবেন ২২ সেপ্টেম্বর। মানে একটা ধোঁযা ধোঁয়া ব্যাপার। তবে যেদিন যান না কেন, আওয়ামী লীগ কিন্তু তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। নিউ ইয়র্ক থেকে দলের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।
একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন একটি সরকার রয়েছ, যার কোনও বৈধতা নেই। অথচ সেই সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস জাতিসঙ্ঘে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন। এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার পক্ষ থেকে ওনাকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তার কয়েকটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত গত বছর নিউইয়র্কের একটি অনু্ষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে যা হয়েছে, সেটা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা এবং সুকৌশলে তাঁর বাস্তবায়ন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার জন্য দায়ী এই ইউনূস। তিনি কোনওভাবেই তাঁর দায় কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারে না। এমনকী কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, বুলডোজার চালিয়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর সব দায় ইউনূস এবং তাঁর তদারকি সরকারের। উনি এই নিয়ে একটি শব্দ খরচ করেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, সেটা দেখেছে গোটা বিশ্ব। ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তাদের কাছে খবর রয়েছে, ইউনূস আগামী ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তাঁর সরাসরি জাতিসঙ্ঘ যাওয়ার কথা। ওই দিন তাঁরা ইউনূস এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তদারকি সরকারের প্রধানের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা – ‘আমাদের একটি রূপ আপনি এবং আপনারা দেখেছেন। আপনারা দেখেছেন আওয়ামী লীগ ছাত্র লীগের রূপ। এবার আমরা আপনাকে দেখাব আমাদের ভয়ঙ্কর রূপ। আপনার তখন আর পালিয়ে যাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা থাকবে না। ’
ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমেরিকায় আইন প্রশাসন বলে কিছু আছে। আমরা পুলিশ ও প্রশাসনের থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির বিষয়ে আগাম অনুমতি নিয়ে রেখেছি। সুশৃঙ্খলভাবেই আমরা ইউনূস এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাব। বুঝিয়ে দেব, আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কতটা। ’ ড. রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের ছাত্র-নেতাদের ওপর যেভাবে অত্যাচার হয়েছে, হাসিনার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়েছে, এবার সময় হয়েছে সে সবকিছুর জবাব দেওয়া। ইউনূস নিউ ইয়র্কে এলে সেই জবাব আমরা দেব। তবে যেমন তেমন করে নয়, সুন্দর করে সাজিয়ে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post