হাসিনার দলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ বাড়িয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে খোলা চিঠি দিয়েছে বিশ্বের তাবড় ৬ মানবাধিকার সংস্থা। এই খবরটা বাংলাদেশের মুষ্টিমেয় কয়েকটি গণমাধ্যম করেছে, বেশিরভাগ প্রথমসারির গণমাধ্যম খবরটিকে এড়িয়ে গিয়েছে। আর্থাৎ, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যথেষ্ট চাপে। আর সরকার চাপে থাকলে সেই খবর এখন বাংলাদেশে প্রকাশ করা হয় না। কূটনৈতিক মহলের মতে, এবার মুহাম্মদ ইউনূস প্রকৃত অর্থেই আন্তর্জাতিক মহল থেকে চাপ অনুভব করতে শুরু করেছেন। আর এর পিছনে রয়েছে নির্বাচনের বিষয়ে ঢিলেমি এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অস্থিরতা সৃষ্টির প্রয়াস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কারণে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল করিয়েছিল, সেই কাজটি হয় প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে, না হয় সেই আশা তাঁরা ত্যাগ করেছে। ফলে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ব্যাপারে ওয়াশিংটন মুখ ফেরাতে শুরু করেছে।
এই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের সদ্য নিউ ইয়র্ক সফরেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও কর্মকর্তার সঙ্গেই সরকারিভাবে বৈঠক করতে পারেনি ইউনূসের সফরসঙ্গীরা। এমনকি ইউনূসও আলাদা করে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ পাননি, কেবলমাত্র সরকারি ডিনারে এক ঝলক দেখা পাওয়া ছাড়া। এই বিষয়টি আঁচ করেই এবার পশ্চিমা দেশগুলি বিশেষত ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবার ইউনূস প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি শুরু করেছে। এর পিছনে ভারতের একটা বড় প্রভাব তো আছেই। যার ফল হল একসঙ্গে ৬টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন সরাসরি খোলা চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে, চিঠির বিষয়টিও বেশ চাঞ্চল্যকর। সেটা হল, এই মানবাধিকার সংগঠনগুলি বলছে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের উপর থাকা যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে হবে। যা এই মুহূর্তে মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
যে সংস্থারগুলি ইউনূসকে খোলা চিঠি দিয়েছে সেগুলি হল- হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্চ এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসকমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ফর্টিফাই রাইটস,টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং সিভিকাস। জানা যাচ্ছে, আরও কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা এই ধরণের পদক্ষেপ নিতে চলেছে। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূসের উপর চাপ বাড়ছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল। বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি মানুষ এই দলের সমর্থক। ফলে তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ না। আবার কেউ কেউ দাবি করছে, কয়োকজন দুর্নীতিগ্রস্থ নেতা-নেত্রীর জন্য গোটা দল শাস্তি পেতে পারে না। ফলে আওয়ামী লীগের উপর থাকা যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, যাতে তাঁরা স্বাধীনভাবে নির্বাচনে লড়তে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে কি ইউনূসের পক্ষে এই দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, ইউনূসকে দ্রুত একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। না হলে আন্তর্জাতিক মহলে তিনি আরও কোনঠাসা হয়ে পড়বেন। অপরদিকে বাংলাদেশের রাজপথে আওয়ামী লীগের চাপও বৃদ্ধি হয়েছে। মঙ্গলবারই ঢাকার রাজপথে একসাথে ৩৫টি আলাদা ঝটিকা মিছিল করলো আওয়ামী লীগ, এবং তা করলো রীতিমতো ঘোষণা করেই। জানা যাচ্ছে, এই কর্মসূচিতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জমায়েত ছিল চোখে পড়ার মতো। এরমধ্যে কুড়িল থেকে মতিঝিল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কর্মীদের মিছিলে জনমানুষের অভূতপূর্ব সহযোগিতা দেখা গিয়েছে। মিছিলে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে মিলে হামলা চালালে স্থানীয় বস্তিবাসীরা আওয়ামী লীগের কর্মীদের তাদের ঘরে লুকিয়ে রক্ষা করে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা জানি, এরা আমাদেরই লোক। বিপদে ফেলব না। অন্যদিকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করতে এলে পথচারীরা তাদের প্রতিহত করে মিছিলকে নির্বিঘ্নে পথ করে দিয়েছে। মিছিলে বহু সাধারণ পথচলতি মানুষও স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছেন। আবার বাসেও আওয়ামী কর্মীদের ভাড়া নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা ‘জনগণের স্পষ্ট সংকেত’। যা ইউনূসের অরাজক শাসনকালের বিগত ১৫ মাসে সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা আওয়ামী লীগ দিয়ে পূরণের ইঙ্গিত দেয়।












Discussion about this post