অশান্তি যেন পিছু ছাড়ছে না ইউনূসের নতুন বাংলাদেশের। ৫ আগস্ট ২০২৪ উন্মত্ত ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশ ছেড়ে বেরিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় নেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। বাংলাদেশে গঠিত হয় মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার গঠনের সময় একাধিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় বসে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। কিন্তু এরপর কেটে গিয়েছে দশ মাস বাংলাদেশের অরাজক পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলা অব্যাহত। সংস্কার চেয়েছিল মানুষ আর প্রধান উপদেষ্টা তিনি তা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় শাসনকার্যের পর তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অর্থাৎ সংস্কার কার্য পূরণ করতে কি সক্ষম হলেন ইউনুস? সংস্কার নাকি অরাজকতা কোনটা বৃদ্ধি পেল পদ্মা পাড়ে? চলুন আলোচনা করা যাক।
জুলাই আন্দোলনে উত্তাল পরিস্থিতির সাক্ষী ছিল বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ। এরপর সরকার বদলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে সাধারণ মানুষ চেয়েছিল বাংলাদেশে শান্তি বিরাজ করবে। সাম্য ও শান্তির বাতাবরণ হবে গোটা দেশজুড়ে। সাম্যের বাংলাদেশ শান্তির বাংলাদেশ। প্রত্যাশা এমনটাই ছিল, কিন্তু সেই আশা অধরাই রয়ে গেছে।
বর্তম্যান সরকারের শুরুর পথেই অত্যাচারিত হয়েছে সংখ্যালঘুরা, তাদের বাড়িঘর মন্দির ভাঙচুর লুটপাট চালিয়েছে সরকারের সহযোগী। কিন্তু যখন এই চরম অরাজকতার পরিস্থিতি তখন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের ভিত্তি কি ছিল?
প্রতিনিয়ত একের পর এক ঘটনায় ইউনুস সরকার একটি দুর্বল সরকারের পরিণত হয়েছে। এ সরকারকে দুর্বল মনে করার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রথমত কোন সরকার যখন অধিক পরিমাণে ধার নেয় তবে সকলেই বুঝতে পারে অভ্যন্তরীণ কোন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সেই দেশের সরকারের সম্পর্কের সমীকরণ ঠিক কোন স্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা মজবুত সেই কথা বলা হচ্ছে। আর সর্বশেষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সেটি হল সরকারের অভ্যন্তরেই আগুন দেখা যাচ্ছে। ত্রুটি অন্তর কলহ সবটাই যেন লক্ষণীয় ইউনুস সরকারের অভ্যন্তরে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বলা যায় এই তিনটি ভিত্তি যদি কোন সরকারের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় তবে সেই সরকারকে দুর্বল বলেই মনে করা উচিত।
বাংলাদেশে পরিবর্তন সরকার শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে আগুন জ্বলন্ত দেখা গেছে কিন্তু আরও একটি ভিত্তি প্রতিবেশী রাষ্ট্র সেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক স্থাপন করে চলে ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তারপরেও একটা ভিত্তি নড়বড় হওয়াতেই সেই সরকারটিকে পড়ে যেতে দেখা গিয়েছিল। আর সেই সময় মোহাম্মদ তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করে সাধারণ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেন মোহাম্মদ ইউনুস।
এবার আসি দুর্বল সরকার চিহ্নিত হওয়ার ক্ষেত্রে যা ভিত্তিগুলো রয়েছে সেখানে মহম্মদ ইউনুসের সরকারে ঠিক কোন কোন ভিত্তি করে লক্ষণীয়, প্রথমতই লোন নেওয়া বা ধার নেওয়া বর্তমানে ইউনুস সরকারের শাসনামলে একাধিক লোন নিতে দেখা গিয়েছে বাংলাদেশকে, অর্থনীতি একেবারে ভেঙে পড়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, শিল্প ও কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া,মানুষের মধ্যে সমস্যা তীব্রতর হওয়াতে আই এম এফ এর কাছ থেকে লোন নিতে হয়েছে মোহাম্মদ ইউনুসকে। তাহলে বলাই যায় প্রথম ভিত্তি ভারের প্রসঙ্গটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বর্তমান সরকারের মধ্যে। এবার আসা যাক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে, মোহাম্মদ ইউনূসের শাসনের আগে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ছিল ভারত। কিন্তু ইউনুস সরকার তার শাসনকালের শুরু থেকেই একাধিকবার ভারতবিদ্বেষী মনোভাব তৈরি করেছে হুংকার হুশিয়ারি দিয়েছে। যদিও কিছু মাস পর বেশ বেকায়দা করে তাকে প্রকাশ্যে স্বীকার করতে হয়েছিল ভারতই বাংলাদেশের প্রকৃত প্রতিবেশী রাষ্ট্র কিন্তু বাস্তবে সেই ছবি এখনো দেখা যায়নি। অর্থাৎ দ্বিতীয় ভিত্তিও মোহাম্মদ ইউনুসের সরকারের অভ্যন্তরে দৃশ্যমান। এবার সর্বশেষ ভিত্তি দেশের অভ্যন্তরে উত্তেজনা উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সেটাও চলছে জুলাই আন্দোলনের সময় দেখা গিয়েছিল একরকম ছাত্র আন্দোলনের ছবি। কিন্তু ফের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেও এখন রাস্তায় বিক্ষোভ প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে আন্দোলন ছাত্র নেতাদের। জ্বলতে শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রতিটি ভিত্তি রয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে তাই একেবারে স্পষ্ট বাংলাদেশের একটি দুর্বল সরকার হিসেবে গড়ে উঠছে ইউনূসের সরকার।
কিন্তু যখন দেশে তার বিরুদ্ধে ছাত্ররা আন্দোলনে নামতে শুরু করেছে তখন সেই পরিস্থিতিতে সামাল দিতে ছাত্র সমন্বয়েরদের নিয়ে তিনি আলাদা একটি রাজনৈতিক দল গঠন করলেন বাংলাদেশের বুকে। সেখানেও রয়েছে ইউনূসের ক্ষমতা দখলের লোভ।
পাশাপাশি ইউনুস একের পর এক পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশে নিজের ক্ষমতাকে ধরে রাখতে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করে মুহাম্মদ ইউনূস যে আসলে চাইছে আরও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে সেটা একেবারেই স্পষ্ট। আর এবার প্রধান উপদেষ্টা নিশানায় সে দেশের সেনাপ্রধান। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে অপসারণ করাই মোহাম্মদ ইউনুসের পরবর্তী পদক্ষেপ। বাংলাদেশ সেনার অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান করার জন্য এখনো বিভিন্ন কার্যকলাপ অব্যাহত।
কারন, হিসাবে বলা হচ্ছে প্রথমত সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উচ্চমান আওয়ামী লীগ পন্থী। আবার শেখ হাসিনার আমলেই তাকে সেনাপ্রধান পদে আসিন করা হয়েছিল এবং সেই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার বোনের স্বামী অর্থাৎ ঘনিষ্ঠ আত্মীয় । যদিও মোহাম্মদ ইউনুসের শাসনামলে জেনারেল ওয়াকার এমন কোনও কাজ করেননি যাতে ইউনুস সরকার বিপন্ন হতে পারে। তবুও তাকে ঘিরে জল্পনা যেন ধীরে ধী রে দৃঢ় হতে শুরু করেছে।












Discussion about this post