বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর বিগত এক বছর ধরে ঘটে চলা অত্যাচার ও খুনের ঘটনা নিয়ে বরাবরই সরব হয়েছে ভারত। বিশেষ করে সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ভারতের সাথে প্রতিবেশী বাংলাদেশের ‘কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্যত অবনতি’ ঘটেছে। বিগত এক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের ঘরবাড়ি, তাদের উপাসনালয়ে ভাংচুর-হুমকির অভিযোগের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রক রীতিমতো পরিসংখ্যান দিয়ে বাংলাদেশকে বলেছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যত তা কানেই তোলেনি। ফলে সম্পর্ক কার্যত তলানিতে গিয়েই ঠেকেছে। এবার হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে আর এক সপ্তাহ পরই। এরমধ্যেই মঙ্গলবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সটান হাজির হলেন ঢাকার বিখ্যাত ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। যা বাংলাদেশের একটি অন্যতম জাতীয় উপসনালয় হিসাবে স্বীকৃত। সেখানে গিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের বাণী, “সব ধর্মের সমান মর্যাদা দিতে বাধ্য রাষ্ট্র”।
অশান্ত বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা নিয়ে কার্যত উদ্বেগে সেখানকার সংখ্যালঘু হিন্দুরা। এই পরিস্থিতিতে ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কয়েকটি ব্যবস্থা নিতে চলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই আবহেই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার করা একটি মন্তব্য হিন্দুদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে, সেই সঙ্গে বাড়িয়েছে ক্ষোভও। আসন্ন দুর্গাপুজোয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, দুর্গাপুজোয় মেলার অনুমতি দেওয়া হবে না, কারণ এখানে মদ-গাঁজা খাওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মতো পদে থেকে এ হেন মন্তব্য করায় হিন্দুদের তরফ থেকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ভারতের হিন্দুরাও কলকাতায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনারে ডেপুটেশন জমা দিয়েছিল এই মন্তব্যের প্রতিবাদে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সংখ্যালঘুদের প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মনোভাব নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। চাপে পড়লেও মুহাম্মদ ইউনূস কোনও প্রতিক্রিয়া না দেওয়া জোরদার চর্চা শুরু হয়েছিল। চাপে পড়েই তিনি মঙ্গলবার হাজির হলেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। এদিন সকাল ১১টার দিকে তিনি মন্দির পরিদর্শন করেন। এরপর প্রধান উপদেষ্টা সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে একটি শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় যোগ দেন। ভাবখানা এমন, অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের পাশেই আছে। ওই সভায় তিনি বলেন, যত রকমের পার্থক্যই থাকুক, রাষ্ট্র আমাদের প্রতি কোনও পার্থক্য করতে পারবে না। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিন তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নাগরিকদের সমস্ত অধিকার আমাদের সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা আছে।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, আসলে চাপে পড়েই তিনি এখন সংবিধানের কথা বলছেন। কিন্তু তাঁর সরকারই বাংলাদেশের সংবিধান পাল্টে ফেলার চেষ্টায় ছিল। জামাত, এনসিপি নেতাদের দাবি মেনে জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলা্দেশকে ইসলামিক রিপাবলিক দেশে রূপান্তরিত করার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাঁধায় তিনি তা করে উঠতে পারেননি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি অত্যাচার নিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলি সরব হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার সংক্রান্ত এক প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছেন। তাঁরা বাংলাদেশের মানবিধাকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন বলে জানা যাচ্ছে। তাই ঠেকায় পড়ে মুহাম্মদ ইউনূস ছুঁটলেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। আস্বস্ত করলেন দুর্গাপুজোর সময় সবরকম সাহায্য ও নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে। নিন্দুকেরা বলছেন, এটা আসলে কুমীরের কান্না।












Discussion about this post