চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি করে সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই কমিশনের সহসভাপতি ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হয়েছেন। সোমবারই এই ঐক্যমত কমিশনের বৈঠক হল। সেখানে আবেগঘন বক্তৃতাও দিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। সেই সঙ্গে বললেন ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা কথা। এই ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকেও তিনি আবারও ঘুরিয়ে পদত্যাগের হুমকি দিলেন। যা শুনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, নোবেলজয়ী ইউনূস, মিথ্যাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে বিষয়টি কার্যত শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি।
এই বৈঠকে মুহাম্মদ ইউনূস বললেন, বাংলাদেশেই একমাত্র জাতীয় ঐক্যমত কমিশন গঠন হয়েছে, যা গোটা বিশ্বের কাছেই একটা নজির হয়ে থাকবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা একেবারেই ডাহা মিথ্যা কথা। কারণ, বিগত কয়েক দশকেই বিশ্বের কয়েকটি দেশ এই ধরণের ঐক্যমত কমিশন গঠন করেছিল। যদিও ভিন্ন ভিন্ন দেশে তার নাম আলাদা। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই দেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলেশন কমিশন তৈরি হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। এছাড়া, কেনিয়া, সিয়ারে লিওন, চিলি, গুয়াতেমালা, তানজিনিয়ার মতো অসংখ্য দেশে এই ধরণের কমিশন তৈরি করা হয়েছিল। একমাত্র মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশেই ঐক্যমত কমিশন তৈরি হয়েছে, এ কথা হলফ করে বলা যাবে না। তবুও একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অবলীলায় বলে দিলেন, এই নজির গোটা বিশ্বেই বিরল। যা নিয়ে কার্যত হাসাহাসি শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের বহু দেশেই গৃহযুদ্ধ, দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক সংঘাত বা অন্তর্দ্বন্দ্ব নিরশনের জন্য এই জাতীয় কমিশন গঠিত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বিষয়টি আলাদা। জুলাই বিপ্লবকে মান্যতা দেওয়া এবং সেই সময় ঘটা যত হত্যাকাণ্ডের দায় আওয়ামী লীগের উপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় একাধিক কমিশন গঠন করেছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সমস্ত কমিশনের হাজারো সুপারিশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিমত ভিন্ন। তাই একটা হাস্যকর ঐক্যমত কমিশন গঠন করে জুলাই গণআন্দোলনের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করার চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। যদিও এই ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকেও হয়নি ঐক্যমত। তাই কমিশনের মেয়াদ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এক সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হল। এর থেকেই বোঝা যায়, এখনও সমস্ত রাজনৈতিক দল ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেনি।
তবে সেদিনের বৈঠকে মুহাম্মদ ইউনূস যে বক্তব্য রেথেছেন, তাতে তিনি রাজনৈতিক দলগুলিতে একমত হওয়ার আহ্বান জানান। আর এই ব্যাপারে তিনি স্বৈরাচারি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ফিরে আসার ভয়ও দেখান।
জানা যায়, ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকে মুহা্ম্মদ ইউনূস ফের একবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। সূত্রের খবর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন আপনাদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকতেই পারে। কিন্তু এই মনোমালিন্য, ঝগড়া-বিবাদকে আড়াল করতে আপনারা আমাকে ব্যবহার করছেন। আমি এই বিবাদ মেটানোর উপযুক্ত লোক নই। এরপরই তিনি বলেছেন, এটা বন্ধ না হলে আমি চলে যেতে বাধ্য হব। অর্থাৎ, তিনি ফের পদত্যাগের হুমকি দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে কার্যত ব্ল্যাকমেল করতে চাইছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আসলে এটা মুহাম্মদ ইউনূসের সুচতুর পরিকল্পনা। যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর দায়িত্ব তিনি পালন করে দেশ ছাড়তে পারেন।












Discussion about this post