সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে যে কোন দিন ফিরে আসতে চলেছে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।
আর সেটি খুব দ্রুতই হতে চলেছে হয়তো ২৬ সে আগস্টের মধ্যেই এই ঘোষনা আসতে চলেছে।
পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আবেদনের পক্ষের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া ডয়চে বলেন, “মঙ্গলবারের রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসার অর্ধেক পথ সুগম হলো৷ পুরো ফিরে আসতে ত্রয়োদশ সংশোধনী রিভিউয়ের মাধ্যমে বহাল হতে হবে৷ আর তা হলে সংসদে আর আইন পাশ করতে হবে না৷ সংবিধানে সয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে৷”
তার কথা, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দুইভাবে বাতিল হয়েছে৷ প্রথমত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন৷ দ্বিতীয়ত, ওই রায়ের আলোকে সংসদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছিলো৷ সংসদ যে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছিলো সেটা আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে বাতিল হয়ে গেল৷ এখন বাকি আছে বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ যে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ করেছিলো সেটা৷ ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হয়েছে৷ এখন রিভিউয়ে যদি আপিল বিভাগের রায় বাতিল হয় তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পথে আর কোনো বাধা থাকবেনা৷ তাহলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সংসদে নতুন কোনো আইন এবং গণভোটের ব্যবস্থার প্রয়োজন হবেনা৷”
তবে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিষ্ট্রার জেনারেল ও সাবেক বিচারক ইকতেদার আহমেদ মনে করেন, “আপিল বিভাগ যদি রিভিউয়ে ত্রয়োদশ সংশোধনী বহাল রাখে তারপরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে সংসদে আইন পাশ করতে হবে৷ গণভোটের আয়োজন করতে হবে৷ কারণ বাস্তবে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নাই, অস্তিত্বহীন৷ সংবিধানে এটা আপনা আপনি ফিরে আসতে পারে না৷ ফলে আগামী সংসদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷ আর পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ার ফলেও একই পথ খুলে গেল৷ আগামী সংসদে গণভোটোর আয়োজনের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা যাবে৷ তবে সেটার ফরম্যাট কী হবে তা সংসদই নির্ধারণ করবে৷”
তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘প্রশ্ন আছে সংসদ সার্বভৌম, না আদালত সার্বভৌম৷ জনগণের সার্বভৌমত্বের মধ্য দিয়ে আদালতের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়৷ আর সুপ্রিম কোর্ট যদি দেখে কোনো আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যতটুকু সাংঘর্ষিক ততটুকুর ব্যাপারে তারা বলতে পারে৷ তারা যদি বাতিলও করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সংসদ সেটার ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেবে ততক্ষণ পর্যন্ত বাতিল হবেনা৷ এখন প্রশ্ন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যদি উচ্চ আদালতের রায়ের ফলে সংবিধানে সরাসরি ফিরে আসে তাহলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান কী হবে? এই সরকারই কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসাবে কাজ করবে? অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এই প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারেরই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামকরণ হবে৷ এই সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রিনেমড হবে, যেমন, জেলা ও দায়রা জজের নাম শুনেছেন৷ একই ব্যক্তি যখন সিভিল মামলা করেন, তখন তাকে বলা হয় জেলা জজ৷ ওই একই ব্যক্তি যখন ক্রিমিনাল মামলা পরিচালনা করেন, তখন তাকে জেলা জজ বলা যায় না, তখন তিনি দায়রা জজ৷ এই ব্যক্তিরাই যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার সিস্টেমে চলে যাবেন ওনারাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবেন৷ এটাতে সাংবিধানিক সাংঘর্ষিকের কোনো জায়গা নেই৷” তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আপিল বিভাগে যে রিভিউ পেন্ডিং আছে তা বাইপাস করেই এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে৷”তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হওয়ার সুযোগ নাই৷ কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগে যেভাবে সংবিধানে ছিলো, রায়ের ফলে সেভাবেই ফিরে আসবে৷ মেয়াদ তিন মাস৷ আর সেখানে রাষ্ট্রপতি কীভাবে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন তার বিধান আছে৷ সর্বশেষ অবসর নেয়া প্রধান বিচারপতি, তা না হলে তার আগের জন, এইভাবে৷ আর সংবিধানে তো এই অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান নেই৷”
“তারপরও রাষ্ট্রপতি যদি ওনাদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন, সেক্ষেত্রে তারা শুধু নির্বাচনটা পরিচালনা করতে পারবেন৷ আর সেটা হলে তারা নতুন দল গঠন বা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না৷ তখন যারা নির্বাচন করবেন তারা আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারে থাকতে পারবেন না৷ এর মধ্যে তো অনেক রাজনৈতিক কথা হচ্ছে৷ তারা দলও গঠন করবেন,” বলেন তিনি৷
তিনি বলেন, “সংবিধান মানলে তো ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয় সংসদ ভেঙে দেয়ার পর৷ এরপর আরো ৯০ দিন পাওয়া যায় যদি দৈব দুর্বিপাক হয়৷ তারপর কী বলবেন? এখন তারা যা করছেন পরবর্তী সংসদ এসে যদি এর বৈধতা না দেয় তাহলে তাদের কাজ তো বৈধ হবেন৷”
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post