গত পাঁচ বছর আগেও যারা বলতেন ইউনূসকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় দেখতে চান, তারা এখন অন্য কথা বলেন। এমনি তিনি লন্ডনে গিয়ে সরকার বেচে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে ইউনূসকে বিদায় দিতে চাইছে তার নিয়োগদাতা ছাত্ররাই।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বাংলাদেশে বেশ উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু তাঁর কার্যক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।ফলে পদত্যাগ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।ইউনূস সরে গেলে অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে আইন বিদদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলছেন নতুন সরকার গঠন সম্ভব, আবার কেউ মনে করছেন সংসদের অনুমোদন ছাড়া তা কঠিন হবে।বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনকালীন রোডম্যাপ দাবি করছে। ইউনূস একদিকে বলছেন তিনি থাকবেন, আবার অন্যদিকে বলছেন যাবেন—এই দ্বিধা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করার পর দেশ-বিদেশে সমালোচনা শুরু হয়েছে, যার দায় এসে পড়েছে ইউনূসের ওপর।সব মিলিয়ে, ইউনূসের পদত্যাগ এখন সময়ের ব্যাপার হলেও, তাঁর সরে যাওয়ার পর কীভাবে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা হবে—সেটাই বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশেও পাকিস্তানের মত সেনা এবং সেনাপ্রধানরা দেশ পরিচালনায় গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে স্বাধীনতার সময় থেকেই । অনেক বার সেনাশাসনও দেখেছে বাংলাদেশ।বর্তমান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৮তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যিনি ২৩ জুন ২০২৪ সালে এই পদে নিয়োগ পান। তার সামরিক জীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য—তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, এবং প্রশংসিত নেতৃত্বের জন্য একাধিক পদকে ভূষিত হয়েছেন।বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিবর্তন সাধারণত রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়, এবং তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়।বাংলাদেশে যে কোন দিন যা কিছু ঘটেও যেতে পারে। কোথাও না কোথাও কিছু তো একটা হচ্ছে । রক্তপাত ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে সরানো যাচ্ছে না । তাই বার বার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে রাষ্ট্রপতিকে সরে যাওয়ার জন্য। অন্তবর্তী সরকার বারবার চেষ্টা করেছে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দিতে। রাজনৈতিক গুঞ্জন বা অনিশ্চয়তা থাকলেও, এখন পর্যন্ত ওয়াকার-উজ-জামান তার দায়িত্বে রয়েছেন এবং তার মেয়াদ তিন বছরের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন উঠেছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমান-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেনাপ্রধানকে সরানোর পরিকল্পনা করছেন।এই বিষয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা DGFI ইতিমধ্যে নজরদারি শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।সেনাবাহিনীর কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামও উঠে এসেছে, যারা নাকি এই পরিকল্পনায় যুক্ত থাকতে পারেন।তবে এখনো পর্যন্ত সরকারি বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রমাণিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।এটি এখনো গুজব ও অপ্রমাণিত তথ্যের পর্যায়ে, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কিছু উত্তেজনা যে রয়েছে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।সম্প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও খবর সামনে এসেছে, বিশেষ করে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে তাঁর ছবি সরানোর নির্দেশনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি মিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই নির্দেশনার পেছনে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করছেন অনেকেই, যদিও সরকারিভাবে এর কারণ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।ওয়াশিংটন, দিল্লি, বেইজিংসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মিশন থেকে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির অবস্থান দুর্বল করে দিলে সরকার আরও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।আবার অনেকে বলছেন, এটি হয়তো প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক প্রটোকলের অংশ, যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।রাষ্ট্রপতির পদ বাংলাদেশের সংবিধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অবস্থান হলেও, কার্যত অনেক সময় তা প্রতীকী হয়ে থাকে। তবে যখন রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তখন তা জনমনে প্রশ্ন তোলে—এই পদক্ষেপের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post