নতুন করে একটি কূটনৈতিক স্তরে সংকটে জড়িয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের একটি সিদ্ধান্ত বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে বাংলাদেশ। টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরও অধরা রয়ে গিয়েছে বিপুল অর্থের হেলিকপ্টার। প্রায় চার বিলিয়ন টাকার একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি যেন না ঘরকা না ঘটকা অবস্থাতে দিয়েছে। টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে, কিন্তু হেলিকপ্টার এখনও বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করতে পারেনি। কারণ হিসাবে জানা যাচ্ছে, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা।
জানা যাচ্ছে, আওয়ামিলীগ সরকারে থাকাকালীন দেশের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং পুলিশি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টারস এর সঙ্গে যুক্ত দুটি এমআই-১৭১ এ২ মডেলের হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি হয়েছিল। এমনকি তিন বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার জেরে সেটি আটকে রয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে, চুক্তি বাতিল করলে বিপুল ক্ষতি হবে বাংলাদেশের। আর চুক্তি ভালো রাখলে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে সম্পর্ক খারাপ হবে বাংলাদেশের। ফলে একটা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে মোহাম্মদ ইউনূসের সরকার।
জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে হেলিকপ্টার কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে সেটি করোনা মহামারীর কারণে সম্পন্ন হয়নি। এরপর ২০২১ সালে ১০ই ফেব্রুয়ারি পুলিশের সদর দপ্তরে রাশিয়ান হেলিকপ্টারস এর সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এমনকি জানা যায়, ওই বছরে অক্টোবরে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চুক্তিটি অনুমোদন করে। এবং এমনকি নভেম্বরে ওই চুক্তি সই করা হয়। সেই সময়ই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ২০২৩ সালের এপ্রিল ও ফেব্রুয়ারি মাসে ওই হেলিকপ্টার গুলি বাংলাদেশে আসবে। কিন্তু তার আগেই একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি হয়।
জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের এপ্রিলে রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। প্রশ্ন উঠছে, কেন সেই সময় বাংলাদেশের সরকার নিষেধাজ্ঞার পরও সই করে এবং টাকা পরিশোধ করে দেয়? যদিও এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সরকার আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমঝোতা করতে চাইছে। আমেরিকাকে বোঝাতে চাইছে, হেলিকপ্টারগুলো সামরিক নয়। বরং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেসামরিক কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত বাধলে চরম বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। যেটা ঘিরে বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে দিচ্ছেন। কারণ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর পর্যায়ে পৌঁছেছে।












Discussion about this post