বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণহত্যাকারী। বাংলাদেশের ইতিহাস পাঠ্য পুস্তকে এমনই সংযোজন করতে চলেছে ইউনূস সরকার। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ইতিহাস নিয়ে চূড়ান্ত প্রহসন বাংলাদেশে। যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল, সেই মুজিবের কন্যাকেই গণহত্যাকারী বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। দেশের ঐতিহ্য এবং ইতিহাসকে কালিমা লিপ্ত করছেন মহম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার বিকালে নিজের ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের সংগ্রামের গল্প পৌঁছে দিতে পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।
জানা যাচ্ছে, আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক পাঠ্য পুস্তকে গুরুত্ব দিয়ে স্থান পাচ্ছে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট। আর সেখানেই শেখ হাসিনাকে গণঅভ্যুত্থানকারী বলে উল্লেখ করার কথা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক চারটি জাতীয় নির্বাচনের তথ্য। এমনকি তিনি লেখেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণ হত্যাকারী বলে তার নাম যুক্ত করা হবে।
গত বছর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে পতন ঘটেছে আওয়ামী লীগ সরকারের। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরই মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হওয়ার পর দেখা গিয়েছে, নতুন পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বা বঙ্গবন্ধুর অবদান প্রায় মুছে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জোর করে জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, পাঠ্যবইয়ে হয়ে যুক্ত হচ্ছে গত চারটি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের ইতিবৃত্ত। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ের দ্বিতীয় পত্রে ২০০৮ সালের সেনা সমর্থিত নির্বাচন, ২০১৪ সালের ভোটের আগেই ১৫৪ আসনে বিজয়ী প্রার্থীদের বিনা ভোটের নির্বাচন। ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে বাক্স ভর্তি করা এবং ২০২৪ সালের সারাদেশে ডামি নির্বাচনের ইতিবৃত্ত পান্ডুলিপিতে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ছোট করে উল্লেখ থাকবে। এই ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও টা নাকোচ করেছে জাতীয় শিক্ষা ক্রম সমন্বয় কমিটি। জানা যাচ্ছে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের বইয়ে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে থাকবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ টি। জানা যাচ্ছে বৈঠকে প্রথমে অষ্টম ও দ্বাদশ শ্রেণীর বই থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সারানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সংক্ষেপে ভাষণটি রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে এনসিবিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কোবীর চৌধুরী জানান, অষ্টম শ্রেণীর বইয়ে আগেও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল। তবে এবার থাকবে সংক্ষিপ্ত আকারে। একাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে একই নীতি প্রযোজ্য হবে।












Discussion about this post