মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার প্রাণদণ্ডের সাজা ঘোষণার পরেই এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে গেল আন্তর্জাতিক মহলে। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও তাঁর জমানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের অনুপস্থিতিতে তাঁদের বিচার শেষ করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্বয়ং জাতিসংঘ। আবার এ সরব হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যেন ঠিক করেই রেখেছে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জনগণের থেকে দূরে রাখতে তাঁরা যতদূর যেতে হয় যাবে। এবার সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে বড়সড় ঘোষণা করতেও পিছপা হল না বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার! মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার দফতরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে— দণ্ডিত আসামিদের কারও বক্তব্য বা বিবৃতি যেন প্রকাশ না–করে দেশের কোনও গণমাধ্যম। এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত মুজিবকন্যার কোনও বক্তব্য বা বিবৃতি বাংলাদেশের কোনও গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির নাম করে এই নির্দেশ দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। এমনকি এই নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটাও জানানো হয়েছে সরকারের তরফে। এটা এক ধরনের ‘ফতোয়া’র সামিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রায় এক বছর অন্তরালে ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুলতে শুরু করেন তিনি। তারপরই ঢাকার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের সেই বিখ্যাত বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল। সেই সময় মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ভারতে বসে ফ্যাসিস্ট হাসিনা একের পর এক উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় জনগণ ক্ষেপে গিয়ে এসব করেছে। তখনই ভারতকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার মুখ বন্ধের আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি।
এরপর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের ঠিক আগেই দেখা গেল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মুখ খুলছেন। তাঁর সাক্ষাৎকার ছাপছে রয়টার্স, এএফপি-সহ বিশ্বের তাবড় তাবড় সংবাদমাধ্যম। এমনকি তিনি প্রায় রোজই নিয়ম করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তাতে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সরকারের মুখোশ খুলছেন তিনি। এমনকি তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে লাগাতার সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। যা কোনো মতেই মেনে নিতে পারছে না ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে সেই সাক্ষাৎকারের অংশ নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলি যে খবর প্রকাশ করছে, সেটা আটকাতে এবার স্বৈরাচারি সিদ্ধান্ত নিল ইউনূসের সরকার। হাসিনার সাজা ঘোষণার পরেই বাংলাদেশের ন্যাশনাল সাইবার সিকিয়োরিটি এজেন্সির তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘হাসিনার মন্তব্যে হিংসা, অপরাধমূলক কার্যকলাপ এবং অব্যবস্থা বাড়বে। বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই দোষী সাব্যস্ত হওয়া পলাতক হাসিনার কোনও মন্তব্য সম্প্রচার করা যাবে না। দেশের সুরক্ষার স্বার্থে সংবাদমাধ্যম যেন দায়িত্ব সহকারে কাজ করে, আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি। দোষী সাব্যস্ত হওয়া পলাতক ব্যক্তিত্বের মতামত প্রকাশ করার অর্থ সাইবার আইন লঙ্ঘন করা। সরকার জানিয়েছে, এই আইনের মাধ্যমে সরকার চাইলেই যেকোনও কন্টেন্ট সরিয়ে দেওয়া বা মুছে ফেলতে পারে। এমনকি ২ বছরের জেল এবং ১০ লক্ষ বাংলাদেশি টাকা জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা কার্যত স্বৈরাচারি ফতোয়া। যা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post