শেখ হাসিনার বিচার শেষে যদি ট্রাইব্যুনাল মাত্র দু-মাসের জন্য জেলও দিত, তবুও আওয়ামীলীগ সেই বিচার মানত না।কারণ এক জন প্রধানমন্ত্রীর ফাঁসির হচ্ছে যে বিচারে, সেই বিচার পরিকাঠামোকে, আন্তজার্তিক মানের হতে হত। বাংলাদেশ আন্তজার্তিক ট্রাইব্যুনালের বিচার যে একপেশে একতরফা তা বলার জন্য কোন আওয়ামীলীগ সমর্থক বা ভারতীয়র প্রয়োজন নেই। এই বিচার কোথাও মান্যতা পাবে না, সেই কথা বলছে, হাসিনারই কট্টর বিরোধী নেতারাও। তাদের মতে এই বিচার ছিল প্রতিহিংসা পরায়ন এবং কিছু মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার বিচার। আর এই মহুর্তে তদারকী সরকার যা যা করছে, তার সবই হচ্ছে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে আলাদা করার প্রতিশোধ স্পিহা থেকে। তাই মুক্তি যুদ্ধের সব চিহ্নকে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। এমকি জয় বাংলা বললে জেলে ভরা হচ্ছে। বলা হচ্ছে আওয়ামীলীগ কোন উকিল দিতে পারেনি। কিন্তু এই বিচারের বিরুদ্ধে মুখে কালো কাপড় বেঁধে যারারাস্তায় মিছিল করল উকিলের পোশাক পরে, তারা কারা। আসল সত্য হল বিচারের সময় আওয়ামীলীগের কোন উকিল তো দুর, কোন সমর্থককেও ঐ চত্তরে দেখলেই গ্রেফতার করা হয়েছে। হাসিনার বিচারকে প্রহসন করার জন্যই আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে উকিলকেওআসতে দেওয়া হয়নি। আর ট্রাইব্যুনাল থেকে যাকে নিযুক্ত করা হয়েছিল, তিনি তার মক্কেলের রায় শুনার পর মুখে বলছেন আমি কষ্ট পাচ্ছি, কিন্তু তিনি হাসিতে ফেটে পড়ছেন। এত কথা বলার কারণ বাংলাদেশ যে হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে, তার উত্তরে ভারত তার ছোট উত্তরে জানিয়ে দিয়েছে হাসিনাকে অপরাধী বা বন্দি মনে করে না ভারত।
ভারতের উত্তরে হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী বলেই সম্মোধন করা আছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে ভালো প্রতিবেশী বলে ঘুরিয়ে সাবধান করা হয়েছে, যার মর্ম বাংলাদেশ আজ বুঝতে না পারলেও পরে পারবে।ভারত খলিলুরকে এটা বুঝিয়ে দিতে দিল্লী ডেকেছে যে, ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এমন কোন পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না করা হয়, যে কারণে ভারতকে তার প্রিয় প্রতিবেশীর উপর বল প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গী তৎপরতা দেখালে, ভারত চারপাশ থেকে একটু একটু করে বাংলাদেশ দখল করতে শুরু করলে ঢাকা ছাড়া বাংলাদেশের হাতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। হাসিনাকে দোষ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু কতটা?বিদেশ থেকে তার সরকার ফেলে দেওয়ার জন্য আন্দোলোনকে যে ভাবে বার বার ২-দফা,৯-দফা, এক দফা করা হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি আয়ত্বে রাখার জন্য নির্বাচিত সরকার বল প্রয়োগ করতেই পারে। আর এটি শুধু বাংলাদেশে হয়েছে এমন নয়। আমেরিকার মত দেশেও হয়। তিনি বুঝতে পারছেন তার বিরুদ্ধে বিদেশী চক্রান্ত হচ্ছে আর সেই চক্রান্তে সামিল বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি। তিনি চাইলে অনেক মৃত্যু হত। কারণ তিনি পূর্ণ ক্ষমতা নিয়েই দেশ ত্যাগ করেছিলেন। ফলে দুই দেশের বিশ্লেষকরাই এটা মনে করেন যে প্রত্যার্পণ চুক্তি মেনে নিলেও, সেই চুক্তির মধ্যে যে শর্তগুলি আছে সেই শর্তের কারনেই, ভারত বাংলাদেশে হাসিনাকে পাঠাতে বাধ্য নয়। তাই হাসিনাকে ফেরত চেয়ে যারা হুমকি দিচ্ছেন, তারা আবার শর্তগুলি চেক করে নিন। আর হাসিনা যদি অপরাধী হতেনও, তবুও হাসিনাকে না পাঠানোটা ভারতের জেদ নয়, পুরানো সংস্কৃতি, যে সংস্কৃতি চলে আসছে কয়েক শ বছর আগের থেকে।












Discussion about this post