আজ ২০ নভেম্বর। আজই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে ফিরবে কি ফিরবে না, তাই নিয়ে রায় ঘোষণার দিন। ইতিমধ্যেই সেই রায় ঘোষিত হয়েছে। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে রায় ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ১৪ বছর আগে আদালতের রায়ে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফের সংবিধানে ফিরল। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের কি হবে? কোন দিকে যাবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি? নতুন সরকার গঠিত হবে? এমন নানা প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে কূটনৈতিক মহলে। আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভবিষ্যৎ কি? যা নিয়ে জোর চর্চা বাংলাদেশের অন্দরে।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রায় দিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর আগে গত ১১ ই নভেম্বর শুনানি শেষ করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগের আমলে বাতিল হয়েছিল। বাতিল করেছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালতই। তবে আওয়ামী লীগ পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবী উঠছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে ওঠে বিষয়টি। ২০২৫ এর ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনঃ বিবেচনার চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। এরপরই ২১শে অক্টোবর থেকে শুরু হয় এই মামলার শুনানি। আজ ছিল তার রায়দান। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল। যার লক্ষ্য ছিল, অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচন করার। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিতর্ক ঘোচাতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হয়েছিল। কিন্তু এই ব্যবস্থাতেও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। এরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ২০১১ সালে এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেয় আপিল বিভাগ। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দাবি রাখে ফের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে হবে। আর সেই মতোই ফের সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হয়ে যাওয়ার পরও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা। অর্থাৎ অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধিনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশে। এখন প্রশ্ন হল. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন? এই ব্যবস্থার যে নিয়ম রয়েছে, তাতে বলা রয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের শেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারতি প্রধান হতে পারেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি মনোনিত কোনও ব্যক্তিত্ব প্রধান হতে পারেন। অর্থাৎ যেই প্রধান হোক না কেন, মুহাম্মদ ইউনূসের প্রধান হওয়ার কোনও অপশন নেই। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আপিল বিভাগ থেকে যদি এই ব্যবস্থার নিয়ম সংশোধন করে মতামত গ্রহণ করে নির্বাচন করা হয়, তহে ইউনূস হতে পারেন প্রধান। অর্থাৎ সুপ্রিম নির্দেশের পরও এই ব্যবস্থা নতুন করে গঠন করে, ফের তা কার্যকর করা অনেক বেশি জটিল। আইনি মারপ্যাঁচ তো রয়েছেই। তবে অন্তবর্তীকালীন সরকার আগামী নির্বাচন করলেও তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, সেটা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টামণ্ডলী থেকে কি বক্তব্য আসে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post