দেখতে দেখতে বাংলাদেশে এক বছর পার করে ফেলল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু এই এক বছরে বাংলাদেশ কী পেল? কতটা সফল হয়েছে নোবেলজয়ী ইউনূসের প্রশাসন? বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা কতটা ভালো হল, এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। প্রথমেই বলে রাখি, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তালিকায় আমরা ভারতীয় গণমাধ্যমকে ধরছি না। বিশেষত ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম নিয়েই এই প্রতিবেদন।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স হোক বা মধ্য প্রাচ্যের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন টাইমস, সব জায়গাতেই মুহাম্মদ ইউনূসের বিগত এক বছরের কার্যকাল নিয়ে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। যা নজর এড়ায়নি বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ার। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলেও এর চর্চা চলছে। আল জাজিরা হেডলাইন করছে, “বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কেন অনিশ্চিত?” আবার সাম্প্রতিক অন্য একটি প্রতিবেদনে হেডলাইন হয়েছে, “হাসিনার পতনের এক বছর পর আশা আর অচলাবস্থার মধ্যে ঠেকেছে বাংলাদেশ”।
ইউনূস সরকারের এক বছর পূর্তিতেও মুসলিম দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এরকম সমালোচনামূলক প্রতিবেদন করায় অবাক অনেকে। যেখানে কয়েকদিন আগেই শেখ হাসিনার অপরাধ নিয়ে তদন্তমূলক প্রতিবেদন করায় ইউনূস সরকারের প্রেস উইং ঘটা করে শেয়ার করা হয়েছিল। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। কারণ এবার হয়েছে সমালোচনা।
আল জাজিরা লিখছে, বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নির্মম দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসে। তরুণ বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের অভিভাবক, শিক্ষক এবং অন্যান্য নাগরিকরাও যোগ দেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সহ বিরোধী দলগুলি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন প্রদান করেছিল। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে একটি অসম্ভব ঐক্যফ্রন্ট গঠন হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পর কি হল? কতটা পরিবর্তন হল? সেটাই খুঁজেছে আল জাজিরা। তাঁরা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান নিয়ে দাবি করেছে, খুব একটা ভালো নেই বাংলাদেশ। আল জাজিরা বলছেন, অনেকেই আশাবাদী নন। একইভাবে রইটার্সও সেই কথাই বলছে। তাঁদের হেডলাইন হল, “হাসিনার পতনের প্রথম বার্ষিকীতে গণতন্ত্র পুনর্নবীকরণের প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের’। এই প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এবার ইউনুষের সরকারের এক বছরের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এটা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের জন্য খুব একটা সুখকের নয়












Discussion about this post