ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের একটি সাক্ষাৎকারেই রয়েছে বাংলাদেশ কে নিয়ে বড় কৌশলগত সংকেত। যাতে চোখের ঘুম উড়বে বাংলাদেশের। তিনি একটি গণমাধ্য়মের সাক্ষাৎকারে তিনটি বিষয় জলের মতো স্পষ্ট করে দিয়েছেন তা হল, প্রথমত, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারতে এসেছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি ভারতে কতদিন থাকবেন সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। ভবিষ্যতে প্রয়োজন রয়েছে স্বচ্ছতার। ব্যাস এতটুকুই। এই কথার মধ্যেই তিনি ভারত – বাংলাদেশের আগামী রাজনৈতিক অবস্থা স্পষ্ট করে দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে একাধিকবার শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে ভারতে। ভারতের উত্তর, এটি দ্বিপাক্ষিক আইনি অনুরোধ নয়। এটি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করে। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা মনে করি, অন্যান্য গণতন্ত্রে মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজেদের ইচ্ছে প্রকাশ করতে পারে। এবং আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে ফলাফল সামনে আসবে, তার পরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতি ভারসাম্যের দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে বাংলাদেশের এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যা শুনেছি বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের আগের প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যা ছিল। এই ইঙ্গিত তিনি শুধু অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুস কে একাই করেননি তিনি ইঙ্গিত করেছেন বাংলাদেশের সামগ্রিক, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকে। এ থেকে একদমই স্পষ্ট যে ভারত চাইছে না বাংলাদেশের একপেশে নির্বাচন হোক।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বৈধ নয়। তাই ঢাকার বারংবার করা একই প্রসঙ্গ ভারতের কাছে যে যৌক্তিক নয় তা ভারত বারবারই বুঝিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের বারংবার করা হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার অনুরোধে ভারত একবারও পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজনবোধ মনে করছেনা। ভারত বারবারই বোঝাতে চাইছে যে বাংলাদেশ যা ভাবছে তা হবে না। ভারত যা মনে করবে আসলে তাই হবে। হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টা ভারতই ঠিক করবে যে ভারত তাকে ফেরত দেবে কি না।
হাসিনার সরকারের পতনের পরেই বাংলাদেশের সরকার অনিশ্চিত। বাংলাদেশে যে সরকার নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ আনতে পারবে ভারত সেই সরকারকেই স্থিতিশীল মনে করবে। আচ্ছা ধরে নেওয়া হোক যে, ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে না, তাহলে এর প্রেক্ষিতে নোবেল জয়ী ইউনুস কী ভারতের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর জবাব দিতে পারবে এর উত্তর টা সবারই জানা। এর উত্তর না। কারণটাও সকলেই জানে।












Discussion about this post