৫ই অগাষ্ট বাংলাদেশে জুলাই সনদ প্রকাশ করা হয়েছে। এই জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা নিয়ে গত কয়েক মাসে প্রবল জল্পনা, আলোচনা চলেছে। এমনকি আলোচনা চলছিল, এই জুলাই সনদ বা ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের সংবিধানের জায়গা করে নেবে। এবং এই আলোচনা একেবারেই ভিত্তিহীন নয়। তবে বহু প্রতীক্ষিত জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে আওয়ামী লীগের। খবর, আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ভারতে বসে বৈঠক করেছে এবং শেখ হাসিনার নির্দেশ মত এগিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনার পতনের বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, এবং সেই দিনই তারা ঘোষণা পত্র প্রকাশ করছে। আর অন্যদিকে এই দিনটিকে হত্যা দিবস হিসাবে চিহ্নিত করছে আওয়ামী লীগ।
৫ই অগাষ্ট মহা ধুমধামের সঙ্গে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। আর এদিকে মঙ্গলবার রাতে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে নিশানা করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রধান উপদেষ্টা কে জঙ্গি কালশা শকুনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ এর মত বাংলাদেশ ফের হায়নার কবলে পড়েছে। হাসিনা বলেন, ইউনূস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন। এই সরকার অবৈধ বলে উল্লেখ করেন তারা।
শেখ হাসিনা ৫ ই আগস্টের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, গণভবনে হামলার ঘটনা ছত্রে ছত্রে তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। শুধু তাই নয়, যখন ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে এই সরকার, তখন আওয়ামী লীগের তরফে বলা হচ্ছে এই দিন হত্যা দিবস।
এমনকি শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে তুলে ধরেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কি মুছে ফেলতে উঠে পড়ে লেগেছে ইউনুসের প্রশাসন। ফের বাংলাদেশ একটি অরাজক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, কখনোই বাংলাদেশকে এই পরিণতি তিনি হতে দেবেন না সেটাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন হাসিনা। এমনকি ধানমন্ডির ৩২ ভেঙেছে এবং তার সমাধি ভাঙার জন্য চক্রান্ত চালিয়েছে। কিন্তু মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছে বলে সেটা ঠেকানো গিয়েছে।
তবে এদিন স্পষ্ট হয়েছে, দেশে ফেরার জন্য শেখ হাসিনা পরিকল্পনা করছেন। এবং কিভাবে বাংলাদেশকে ফের মুক্ত করবেন, তারই চেষ্টা চালাচ্ছেন ভারতে বসে।
এদিকে জুলাই ঘোষণাপত্রের ছত্রে ছত্রে উল্লেখ রয়েছে আওয়ামী লীগের জমানার ঠিক কতটা খারাপ এবং শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কতটা ব্যর্থ। প্রশ্ন এখানেই ওঠে, ছাত্র নেতা থেকে শুরু করে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন বক্তব্যে শেখ হাসিনার জামানার নিন্দে করেছেন। সেটার জন্য একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করার খুব কি দরকার ছিল? এমন হাস্যকর কথাই উঠে আসছে বাংলাদেশ থেকে।












Discussion about this post