বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। সেটা শুধু সাধারণ মানুষ বলছেন তাই নয়, বলছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক। বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ৪ শিক্ষার্থীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ আদেশ দেন। তখনই শুনানির এক সময়ে এসে বিচারক বলেন, বাংলাদেশটারই কোনও লাইফ নেই। অলরেডি পুরো দেশটাই এখন লাইফ সাপোর্টে। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ছাত্রলীগ হিসাবে দাবি করেন সরকার পক্ষের আইনজীবি। তবে ওই ছাত্র আদালতকে বলেন,তিনি জুলাই আন্দোলনের সহ যোদ্ধা। আসলে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারপর তিনি আরও বলেন, এই দেশের ১২ আনা তো অলরেডি শেষ হয়ে গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে, তারা আর চাকরি পাবে? এত এত গোল্ডেন এ প্লাস দিয়ে কী হবে? সিডিএমএস ঠিক থাকবে? ওদের জীবন তো শেষ। যেখানে বাংলাদেশটারই কোনও লাইফ নেই। অলরেডি পুরো দেশটাই এখন লাইফ সাপোর্টে। শুধু দেশ নয়, বিদেশী চাপে ইউনূসের সরকার। অনেকে বলছে, আইন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
আসলে শুধুমাত্র বিচারক বা সাধারণ মানুষ নয়, ইউনূসের ঘনিষ্ঠ বহু মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার কারণ এই সরকারের পচন শুরু হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের জমানা নিয়ে যে যে পত্রিকা প্রশংসায় ভরিয়ে দিত, এখন প্রবলভাবে সমালোচনা করছে। বিমান দুর্ঘটনার পরে কেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলেন না প্রধান উপদেষ্টা, তা ঘিরেও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এমনকি দুর্ঘটনার পর রাজনৈতিক দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকের সমালোচনা করা হচ্ছে। গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে বাংলাদেশের একটি নামী পত্রিকা। সেই বৈঠকে এম কে আজাদ সরকারের দক্ষতা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র হতাশা জানান। ৪০ বছরে এমন সংকট পরিস্থিতি দেখেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক দরকষাকষেতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ সরকার, জানান তিনি। এমনকি তিনি বলেন, কয়েক মাস পর এই সরকার নাকি চলে যাবে। কিন্তু আমরা কোথায় যাব? এমনকি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সরকারের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেন। এমনকি তিনি বলেন, যেটুকু সংস্কারের সম্ভাবনা ছিল, সেটাও শেষ হয়ে গিয়েছে। হোসেন জিল্লুর রহমানও হতাশা প্রকাশ করেছেন। এর প্রত্যেকেই সাদরে গ্রহণ করেছিল ইউনূসের সরকারকে। কিন্তু দিনে দিনে হতাশা ছাড়া তাদের আর কিছু দিতে পারেনি, সেটা পরিষ্কার।
যতদিন যাচ্ছে ততই মিত্র হারা হচ্ছে মোহাম্মদ ইউনূস। এমনকি করিডোর বন্দর ইস্যুতে রুষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চিনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আর অন্যদিকে হুশিয়ারি দিচ্ছে জাপান। ফলে সব মিলিয়ে, এক বছর গড়াতে না গরাতেই মিত্রহারা হতে হচ্ছে ইউনুসকে।












Discussion about this post