বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। যিনি ক্রীড়া সাংবাদিকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। প্রথমদিকে প্রায় সাড়ে সাতমাস তিনি বাংলাদেশ অবজারভারে কাজ করেন। এরপর তিনি ব্যবসায়িক সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন এবং আড়াই বছর দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে কাজ করেন। এরপর ২০০৫ সালে শফিকুল আলম ফ্রান্সের বিখ্যাত সংবাদ সংস্থা এএফপি-তে একজন সংবাদদাতা হিসেবে যোগদান করেন। এএফপিতে দুই দশকের কর্মজীবনে, তিনি প্রথম সাত বছর সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১২ সালে বাংলাদেশের ব্যুরো প্রধান পদে উন্নীত হন। বাংলাদেশে পালাবদলের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের দায়িত্ব গ্রহণের আগে পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে, শফিকুল আলমকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তার পর থেকে শফিকুল আলমেক কর্মকাণ্ড নিয়ে একদিকে যেমন বিতর্ক রয়েছে, তেমনই আবার অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে তাঁর জনপ্রিয়তাও রয়েছে। বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক দাবি করেন, শফিকুল আলম এমন একজন ব্যক্তি যিনি অবলীলায় মিথ্যা কথা বলতে পারেন। আর মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে তাঁর মতো করে আর কেউ পারেন না।
যেমন ১৮ নভেম্বর তিনি এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দাবি করেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনও সরকার এত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি, বিগত দেড় বছরে যতটা অর্জন করেছে এই অন্তর্বর্তী সরকার। ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং তাদের নির্ধারিত প্রায় সব লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে। তবে এ সব কিছুকে ছাপিয়ে শফিকুল আলমের একটি ভিডিও এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, নির্বাচন মিটলেই তিনি তাপলীগে যোগ দেবেন। কোনও এক আলাপচারিতায় তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি আমি তাবলীগে যোগ দিতে চাই। আমার ইচ্ছা আছে রোজার পরই আমি সেখানে যোগ দেব। বিশেষ অনুমতি নিয়ে মোবাইল সঙ্গে রাখবো। কতদিন তাপলীগে থাকবেন সেটাও বলেন তিনি।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বিগত ১৫ মাসে ঠিক কি কি কাজ করেছে তা নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তাতে তিনি যেমন দাবি করেছেন, এই সরকার সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশের উন্নতিসাধনে। যেমন তাঁর দাবি, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তাঁর দাবি, কোনও লবিং ফার্ম নিয়োগ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নাকি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আবার তাঁর দাবি, বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক সহিংসতা বন্ধ হয়ে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। লম্বা চওড়া ওই পোস্টে তাঁর একাধিক দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল কাঁটাছেঁড়া চলছে। ইউনূস সরকারের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে শফিকুল আলম লিখেছেন, নতুন নীতিমালা বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। অর্থনীতি পুনরায় উন্নয়নমুখী হয়েছে। ব্যাংক খাতের লুটপাট কমেছে, টাকা স্থিতিশীল হয়েছে এবং খাদ্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমেছে। কিন্তু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, এর কোনও টাই হয়নি। এমনকি বিশ্বব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণের কিস্তি দিতে অস্বীকারই করেনি, তাঁরা বাংলাদেশের আর্থিক বেহাল দশার চিত্রও উন্মোচন করেছে। অর্থ্যাৎ মিথ্যার ফুলঝুড়ি ছোটানো শফিক এখন নিজের সেফ এক্সিট খুঁজছেন। জানা যাচ্ছে, মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেই যাতে তিনি দেশ ছাড়তে পারেন তার জন্য ইতিমধ্যেই তদবির করছেন শফিকুল আলম। যদি কোনও ভাবে সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে প্লান বি হিসেবে তাবলীগ জামাতের স্মরণাপন্ন হওয়ার চিন্তাভাবনা নিয়ে রাখলেন। অন্যদিকে শফিকের সহকারী ডেপুটি প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সোমবারই ঢাকার রাস্তায় কার্যত গণধোলাই খেয়েছেন বলেই জানা যাচ্ছে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গাড়িতে বসেই ধমক দিতে গিয়ে তাঁকে উত্তেজিত জনতা গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধোর করে। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে বলেই খবর। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের প্রেস উইং কার্যত টালমাটাল অবস্থায়। কিন্তু মিথ্যার বেসাতি অব্যাহত।
https://www.youtube.com/watch?v=9rPjpI6L1uE












Discussion about this post