বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের একেকটি বিদেশ সফরে একেকটি বিতর্ক। যা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ কটাক্ষ করে বলছেন, ইউনূস সাহেবের বিদেশ সফরে কোনও বিতর্ক না হলে যেন ষোলো কলা পূর্ণ হয় না। এবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ সভা উপলক্ষ্যে তাঁর সফর যেন আগের সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে গিয়েছে। প্রথমে তাঁর সফরসঙ্গী আখতার হোসেনকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন টিমের জেরা, তার পরে এনসিপি নেতার উপর ডিম বৃষ্টির ঘটনা। এখানেই শেষ নয়, প্রায় শতাধিক প্রতিনিধি নিয়ে তাঁর মার্কিন সফরের খরচ নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই সফরে নাকি বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ৭০০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু এরপরেও বাংলাদেশজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, এত খরচ ও ঢাকঢোল পিটিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস নিউ ইয়র্ক গেলেন, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটা ছবি তোলার সুযোগই পেলেন না। যদিও এই প্রশ্ন উঠতেই অন্তর্বর্তী সরকারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি ছবি আপলোড করা হয়েছিল। তাতে দেখা যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর স্ত্রী মেলোনিয়ার সঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর কন্যা দিনা ইউনূস। এই ছবি নিয়ে এবার শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। একদল দাবি তুলছেন, এই ছবিটা ভুয়ো, এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আদতেও ট্রাম্প মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখাই করেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ছবির সঙ্গে কেউ কেউ আরেকটি ছবি জুড়ে দেন। যেখানে প্রায় একই ফ্রেমে ট্রাম্প দম্পতির সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ও তার স্ত্রী। ছবি দুটি পাশাপাশি দিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, ছবি থেকে মুলিনো দম্পতিকে সরিয়ে দিয়ে ইউনূস ও তাঁর মেয়ের ছবি বসানো হয়েছে কিনা?
এই বিতর্কের মাঝেই মুখ খোলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করে দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসনের তরফেই এই ছবিটি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার দফতরে পাঠানো হয়েছে। সফর চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। ছবিটি সেই দিনই তোলা। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন ছবিটি কয়েকদিন পর প্রকাশ করেছে। যদিও বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, এই ব্যাপারে তাঁরা প্রেস সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি মুখ খোলেননি, কেবলমাত্র ফেসবুক পোস্টে সাফাই গেয়ে দায় সেরেছেন।
ঘটনা হল, গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্স ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সম্মান ভোজের আয়োজন করেছিলেন সেই দিন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। সেখানে কয়েকজনের সাথে মুহাম্মদ ইউনূসের কয়েকটি ছবি-সহ লেখা হয়েছিল, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখানে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে তাঁর সুবিধামত বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। মজার বিষয় হল, ওই ফেসবুক পোস্টে ট্রাম্প দম্পতির সঙ্গে স্বকন্যা মুহাম্মদ ইউনূসের কোনও ছবি ছিল না। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, যেখানে অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ট্রাম্প দম্পতির ছবি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে এতদিন পর কেন মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছবিটি সামনে এল? তাহলে কি একমাত্র এই ছবিটির জন্যই ৭০০ কোটি টাকা অপচয় করল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার? নাকি পুরোটাই মিথ্যা ও সাজানো একটা নাটক? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছবিটি এআই জেনারেটেড নয়। তবে এই একই কায়দা ও ভঙ্গিমায় ট্রাম্প দম্পতির একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে ছবি সন্দেহের অবকাশ তৈরি করেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post