যাহা রটে, তাহা কিছুটা বটে, বাংলার এই প্রবাদটাই আজ সবচেয়ে মানায় মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হঠাৎ এমনভাবে মোড় নিয়েছে, যেখানে এখন গুঞ্জন শুরু হয়েছে স্বয়ং মুহাম্মদ ইউনূস বা তাঁর উপদেষ্টারা নাকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন সেফ এক্সিটের জন্য। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা যুক্তি এবং তথ্য সমনে রেখে এই দাবি করছেন। বিশ্লেষকরা সেই এক-এগারো সরকারের পরিণতি এবং সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ সময়ের অবস্থার কথা তুলে ধরে বর্তমান ইউনূস সরকারের পরিস্থিতিকে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্র আরও একবার অস্তমিত হয়েছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে। সেবারও নির্বাচিত চড়াও হয়েছিল সেনাবাহিনী সমর্থিত অবৈধ সরকার। সেটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক এগারো নামে কুখ্যাত। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে, আর শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ওই দিনটিকে গণতন্ত্রের ওপর ডাকাতি বলেই উল্লেখ করে।
সেই এক-এগারো সরকারের কুশীলব মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনদের অবস্থাও হয়েছিল করুণ। তাঁরাও সেফ এক্সিট নিয়ে বিদেশে পালিয়েছিলেন, আর ফিরে আসেননি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সে সময় নানা উত্থান-পতনের এক পর্যায়ে ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে উৎখাত করে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছিল। এবারও প্রায় একই পরিস্থিতি। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একেবারেই ব্যর্থ দেশ চালাতে। বিদেশী মদত ও অর্থায়নে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় এসেছেন নোবেলজয়ী ইউনূস। কিন্তু তার পর থেকে ১৪ মাস কেটে গেলেও বাংলাদেশের কোনও উন্নতি নেই। অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, কলকারখানা বন্ধ, বেকারত্ব বেড়েছে। এছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থাও অথৈবচ। ফলে এখন উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ নাকি সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থান খুঁজতে শুরু করেছেন। আবারও এও দাবি করা হচ্ছে, স্বয়ং মুহাম্মদও নাকি সেই পথের পথিক।
হাসিনা সরকারের পতনের চোদ্দ মাস পরেও বাংলাদেশে গুম খুন কি বন্ধ হয়েছে? বাংলাদেশে কিন্তু এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। কারণ, বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান বলছে, শুধু রাজধানীর ঢাকাতেই গত নয় মাসে ৪৯২টি বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া গেছে। তাঁদের প্রায় প্রত্যেকের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত বছর একই সময়ে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা ছিল ৩৭৮টি। তারমধ্যে অগস্ট থেকে ৪ মাস ক্ষমতায় ছিল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থাৎ, মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে গুম-খুনের ঘটনা কমেনি তো বটেই, বরং বেড়েছে। তবুও কেবলমাত্র কিছু রাজনৈতিক দলের চাপে শেখ হাসিনাকে ফাঁসাতে নতুন করে মামলা দায়ের করেছে ইউনূসের সরকার। তাতে যুক্ত করা হয়েছে ২৪ জন সামরিক কর্তার নাম। এরমধ্যে আবার ১৪ জন এখনও কর্মরত। এটা নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হতেই চাপে পড়েছেন ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা। যদিও আগে থেকেই ইউনূসের মুখে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর কথা শোনা গিয়েছিল। সেটা তিনি নিউ ইয়র্কে বসেই বলেছিলেন। শোনা যাচ্ছে, তাঁর খুব কাছের তিন দেশ নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতদের কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ফেরাতে নতুন পায়তারা কষছেন ইউনূসই। পাশাপাশি শেখ হাসিনার কাছেও তিনি বার্তা দিচ্ছেন তিনি সেফ এক্সিট চান।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post