ভাবা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সফরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য বিক্ষোভ সামলাতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামির দুই শীর্ষ নেতা এবং এনসিপির দুই নেতা-নেত্রীকে মানব-ঢাল করে নিয়ে গিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এটা তাঁর কৌশলী চাল ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল বিমান থেকে নামার পরে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে মুহাম্মদ ইউনূস নিজে গাড়িতে উঠে চলে গেলেন। আর তাঁর সফরসঙ্গী বাংলাদেশের তিন রাজনৈতিক দলের নেতারা বের হলেন সাধারণ যাত্রীদের মতোই। তাতেই আওয়ামী লীগের সভ্য-সমর্থকদের সুবিধা হল তাঁদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে। যদিও এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে আওয়ামী লীগ কোনও বার্তা দিতে চেয়েছে। অন্যদিকে একই পথে বের হওয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল আলমগীরকে কটুক্তি করা হলেও তাঁকে লক্ষ্য করে কেউ ডিম ছোড়েননি। অন্যদিকে এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারাকেও কটুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু তাঁকে কেউ হেনস্থা করেননি। অর্থাৎ, একমাত্র শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে। মজার বিষয় হল, জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সমান। তাহলে এই পাঁচ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কেন সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন তিনি?
আরও অনেক প্রশ্ন উঠছে, বিএনপির কাউকে দেখা গেল না মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরকে বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগের তরফে দাবি করা হয়েছে, মির্জা সাহেব প্রবীণ এবং এনসিপির নেত্রী তাসনিম জারা মহিলা বলে তাঁদের গায়ে কেউ হাত দেওয়া হয়নি। এমনকি আখতার হোসেনের উপর ডিম ছোড়ার জন্য যাকে গ্রেফতার করেছিল নিউ ইয়র্ক পুলিশ, তাঁকেও থানা থেকেই জামিন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ভিডিও আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেছে।
নিউইয়র্কে আখতার হোসেনকে বাঁচাতে বিএনপির কেউ এগিয়ে আসেনি। এই বিযয়ে বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী দাবি করেছেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি।
ঘটনা হল, সোমবার নিউ ইয়র্কে মুহাম্মদ ইউনূসের বিমান অবতরণ করার আগেই শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ। একটার পর একটা ডিম এসে লাগে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের পিঠে। তাঁর জ্যাকেট ভিজে যায়। সঙ্গে চলে অকথ্য গালিগালাজ। নিরাপত্তা রক্ষীরা ইউনূসকে গাড়িতে চাপিয়ে বার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে রাস্তায় শুয়ে পড়েন তিন বিক্ষোভকারী। কিছু ক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিল তাঁর গাড়ি। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও লন্ডনে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও তাঁর সফরসঙ্গীদের হেনস্থা করে আওয়ামি লিগের সভ্য সমর্থকরা। তার আগে, লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সফরের সময়ও তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছিল আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। এবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কেও একই চিত্র দেখা গেল। জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। জানা যাচ্ছে, এই কাজের বাইরে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নিয়েই মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের তিন রাজনৈতিক দলের পাঁচ নেতাকে সফরসঙ্গী করে নিয়ে গিয়েছেন। আসল বিষয়টি হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে করিডোর দেওয়া এবং বাংলাদেশে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে দেওয়ার ঐক্যমত করতেই এই তিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে যাওয়া। এর জন্য ইউনূস সাহেব খরচ করছেন প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।












Discussion about this post