ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার এ দেশে বসবাসকালী অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধেই কেবলমাত্র কঠোর অবস্থান নিচ্ছে তাই নয়, সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে আরও এক অভিযান। জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ নেমেছে এক বড়সড় অভিযানে। সেটা হল মানবপাচারের তদন্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে ফুঁসলিয়ে ভারতে নিয়ে আসা মহিলা ও শিশুদের যে চক্রগুলি কাজ করে, তাঁদের বিরুদ্ধেই এবার অভিযানে নেমেছে এনআইএ। গত শনিবার কলকাতা এবং বনগাঁ এলাকার পাঁচটি স্থানে তল্লাশি চালায় ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা। এক নাবালিকা বাংলাদেশি মেয়ের পাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত আমির আলী শেখ এবং অমল কৃষ্ণ মণ্ডল দুজনেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে তাঁরা। উল্লেখযোগ্য দিক হল, ওই নাবালিকা মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল গত বছর নভেম্বর মাসে ওড়িশার কটক শহরে।
জানা যাচ্ছে, ওই নাবালিকা পাচারের তদন্ত শুরু করেছিল কটকের মধুপাটনা থানার পুলিশ। তাঁরা এই বিষয়ে ছয জনকে গ্রেফতারও করেছিল। কিন্তু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছিল, এটা একটা আন্তর্জাতিক মানবপাচারের ঘটনা। এরপরই তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। তাঁরা এবার হানা দিল কলকাতা এবং বাংলাদেশ সীমান্তের বনগাঁয়। জানা যাচ্ছে, মূলত চাকরির টোপ দিয়ে অথবা বিপুল অর্থের টোপে বাংলাদেশের নাবালিকা ও কম বয়সি মহিলাদের লুকিয়ে ভারতে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয় কোনও পতিতাপল্লীতে। এনআইএ তদন্তকারীরা এই চক্রের মূলে পৌঁছতে চাইছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে এই এনআইএ তদন্ত যথেষ্টই বড় ভূমিকা নিতে পারে। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তে যে সমস্ত মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে, তাঁদের ধরতেও এটা কার্যকরী ভূমিকা নেবে। কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় সীমান্ত রয়েছে, এবং এখনও এই সীমান্তের একটা বড় অংশ কাঁটাতাঁবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
এনআইএ জানিয়েছে, কলকাতা ও বনগাঁর সঙ্গে মোট পাঁচটি এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। এই অভিযানে এনআইএ তদন্তকারীরা বিপুল পরিমাণ ভারতীয়, বাংলাদেশি এবং অন্যান্য বিদেশী মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করেছে। সেই সঙ্গে পেয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং কাগজপত্র। আন্তর্জাতিক মানব পাচারের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। এমনটাই দাবি করছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। এর পরই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশি মেয়েদের ভারতে পাচারের সাথে জড়িত মানব পাচারকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলে এনআইএ-র মতো এজেন্সি তদন্তভার হাতে নেয় না। ফলে বোঝাই যাচ্ছে এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। সম্প্রতি অজিত ডোভাল কলকাতায় এসেছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, যেমন আইবি, এনআইএ, ইডি, এবং সেনা ও বিএসএফের গোয়েন্দা শাখার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। সেই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের কয়েকজন শীর্ষ কর্তাও ছিল ওই বৈঠকে। এরপরই এনআইএ এই তদন্তভার হাতে নেয় বলে জানা যাচ্ছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post