উভয় সংকটে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। একদিকে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে আওয়ামী লীগের মিছিলের বহর। এরমধ্যেই গত রবিবার গুরুত্বপূর্ণ ১০ জন উপদেষ্টা, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কর্তা এবং শীর্ষ আমলাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। জানা যাচ্ছে, এত নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা সত্বেও আওয়ামী লীগ কীভাবে ঢাকার রাস্তায় ঘনঘন মিছিল করছে সেটা নিয়ে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউনূস। কিন্তু তাঁকেও অন্যান্য উপদেষ্টাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ জটিল।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম যথারীতি ওই বৈঠকের বিষয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর পার্ষদদের বলেছেন, জুলাই আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে ঐক্যের পরিবেশ ছিল, তা আরও মজবুত করতে হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ বলছেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং তার প্রধান শফিকুল আলম সংবাদ মাধ্যমের সামনে যা বলেন, তার বেশিরভাগটাই হাস্যকর এবং বিভ্রান্তিকর। কেউ কেউ এমনও দাবি করছেন, যে বিদেশি শক্তিগুলি বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পিছনে অর্থায়ন করেছিল, তাঁদের মধ্যে কয়েকটি এখনও মুহাম্মদ ইউনূসের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য পয়সা ঢালছে। এর জেরেই অন্তর্বর্তী সরকার তাঁদের মতো করে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। যদিও আওয়ামী লীগ এর পর্দাফাঁস করছে নিয়মিত। যেমন কয়েকদিন আগেই প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতি জারি করে দাবি করেছিল বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাকি কোনও অবনতি হয়নি। তাঁদের হাস্যকর দাবি, যা পরিসংখ্যান সামনে আসছে সেটা নাকি হাসিনার আমলের ঘটে যাওয়া ঘটনা। কিন্তু হাসিনার আমলে কেউ মামলা দায়ের করতে পারতেন না, যা এখন করছেন। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের উপদেষ্টাদের অনেকে এ সব বিষয় নিয়েই ক্ষুব্ধ। এবং রবিবারের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকেও তোপ দাগেন তাঁরা। তাঁরা মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যর্থতাগুলি রীতিমতো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন বলেও জানা যাচ্ছে। ইউনূসের পাশাপাশি কয়েকজন উপদেষ্টার তোপের মুখে পড়েন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীও। তিনি সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছিলেন পুজোর সময় মণ্ডপ চত্ত্বরে হওয়া মেলায় মদ, গাঁজা বিক্রি হয়। তাই মেলার করার অনুমতি না দিতে উদ্যোক্তাদের বলা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকাধীর এমন মন্তব্যে অনেকেই বিরক্ত। উপদেষ্টাদের কেউ কেউ এই মন্তব্যের জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের সামনেই জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীকে তুলোধনা করেছেন। হিন্দুদের সংগঠনগুলি মনে করছে এই মন্তব্য একপেশে এবং একটি উৎসরকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা। তাঁরা এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে। ক্ষুব্ধ উপদেষ্টাদের দাবি, এমনিতেই সংখ্যালঘু প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বদমান হয়ে গিয়েছে। এর ওপর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সবমিলিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস এবার ঘরোয়াভাবেও চাপে পড়তে শুরু করেছেন।












Discussion about this post