বাংলায় একটা প্রবাদ রয়েছে – বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা।
মানে হল কিছু মানুষ বুঝতে পেরেও প্রশ্ন করতে চায়। এটা তাদের অভ্যাস। চোখের সামনে এতকিছু ঘটনার পরও তাদের চোখে কিছুই ধরা পড়ছে না।
বাংলাদেশের একাংশ মানুষ এখন তেজপাতায় পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রশ্ন – এই যে সবাই বলছে আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে, আওয়ামী লীগ ফিরবে – কোথায় কী? কিছুই তো দেখতে পারছি না। রাজপথে এত যে আওয়ামী লীগের মিটিং, মিছিল সভা হচ্ছে, সেগুলি তারা দেখতে পাচ্ছেন না? ভারত থেকে হাসিনাকে দেশে ফেরাতে যে তৎপরতা শুরু হয়েছে, সেটাও কী তাদের চোখে পড়ছে। আওয়ামী লীগের সভা সমাবেশ যে তদারকি সরকার এবং সেনাপ্রধানকে চাপে ফেলে দিয়েছে, সেটা হয়তো তারা দেখতে পাচ্ছেন না। কিন্তু অনুমান করাও কী কঠিন? আওয়ামী লীগ চিরাচরিত পথে রাজপথে ফিরে আসছে। বাংলাদেশে প্রতিদিন দল নানা ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে চলেছে। আগামীদিনে তাদের সভাসমাবেশের সংখ্যা আরও বাড়বে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এমন দিন আর খুব বেশি দূরে নেই যেদিন বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা থেকে আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশের খবর আসবে।
অপর দিকে শেখ হাসিনা নানা সময়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। দেশে না থাকলেও দলকে এবং দলের নেতাকর্মীদের নানা ভাবে অক্সিজেন জুগিয়ে চলেছেন। ইতিমধ্যে বাতাসে ভাসতে শুরু করেছে হাসিনা দেশে ফিরছেন এবং ডিসেম্বরের আগেই। তবে এটা নির্ভর করছে বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার ওপর। সেই প্রক্রিয়া ডিসেম্বরের আগে শেষ হয়ে গেলে তিনি ডিসেম্বরে ফিরবেন না হলে পরের বছর। তবে হাসিনা যে ফিরবেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তিনি নিজেও সেই বার্তা দিয়েছেন।
চলতি বছর এপ্রিলে হাসিনা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ধৈর্ষ ধরুন, আমি আসছি। ওদের বিচার করব। এরপর জুলাইয়ে আরও একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন হাসিনা। সেই ভিডিও বার্তায় হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, আমি ফিরছি। গণঅভ্যুত্থানে যে দলের পতন হয়েছে, সেই দল আবার সমহিমায় ফিরছে, এটা একটা নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। এদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তারপরেও তারা রাজপথ কাঁপিয়ে দিচ্ছে। পথে নামছেন দলের হাজার হাজার কর্মী সমর্থক। সাধারণ মানুষ তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই ঘটনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে দেশবাসী শাসন ক্ষমতায় হাসিনার দলকেই দেখতে চায়। চায় না সেনাবাহিনী বা বিএনপি ক্ষমতায় আসুক। পুলিশ যেদিন ১০জনকে গ্রেফতার করছে ঠিক তারপরের দিন ২০ জন আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থক মাঠে নেমে সভা করছে সমাবেশ করছে। পুলিশ, প্রশাসন, সেনাকে তারা এই বার্তাই দিচ্ছে যে আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। সরকার এবং সঙ্গী-সাথীরা যতই ক্ষমতা দেখাক না কেন, লাভ নেই। যত বাধা আসবে, লড়াই তত জোরাল হবে। গণঅভ্যুত্থানের পরেও একটি দল জনমানসে এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, বাংলাদেশকে না দেখলে কোনওভাবেই বোঝার উপায় নেই। এটাই আওয়ামী লীগের শক্তি। এটাই আওয়ামী লীগের সম্পদ, যার ওপর ভিত্তি করে দলের কর্মীরা প্রশাসনের চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস রাখে।
যাদের কাছে হাসিনার দেশে ফেরার খবর গুজব মনে হচ্ছে, তারা আসলে না বুঝলে তেজপাতা। রাজপথে তারা না নামলে বাংলাদেশে পরিবর্তন অসম্ভব।












Discussion about this post