মহড়া শেষ সেনাপ্রধানের। কিভাবে হাসিনা তেজগাঁও বিমানবন্দরের নামবেন, সেখান থেকে কোথায় যাবেন এবং শেষমেষ তিনি কোথায় থাকবেন এই সমস্ত রিপোর্ট মোটামুটি চূড়ান্ত। রিপোর্টটি পৌঁছেও গিয়েছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এর কাছে।
জানা যাচ্ছে অজিত ডোবারসহ আরো কয়েকজন আধিকারিক এই রিপোর্টটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন। তাদের তরফ থেকে সম্মতি আসলেই তখন শুধু মহড়া নয় একেবারে প্রস্তুত থাকবে সেনাবাহিনী। এরপর যদি কোনরকম বদলের প্রয়োজন হয় সেই বদল টুকু করে দিল্লির লুটিয়ানস থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আসা হবে বাংলাদেশে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মধ্য আফ্রিকার সফর সেরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান যথারীতি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের না নেমে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নেমেছিলেন। আসেনা প্রধান ঠিক যে সুরক্ষা বলয়ের মাধ্যমে এ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিলেন ঠিক একই সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে দিয়েই বাংলাদেশে পা রাখবেন শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে সেনাপ্রধানের পথ অনুসরণ করে শাহজালাল বিমানবন্দরে না নেমে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নামতে চলেছেন হাসিনা। গোপনীয়তা বজায় রেখে সেনাপ্রধান তেজগাও বিমানবন্দরের নেমে সেই প্রক্রিয়ার সুবিধাগুলি সম্পর্কে অবগত হয়ে গিয়েছেন। যা তাকে শেখ হাসিনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে।
গত ৭ মার্চ ঢাকায় মার্চ ফর খিলাফত নামে বিশাল কর্মসূচি নিয়েছিল হিজবুত তেহরি নামে এক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সেই ষড়যন্ত্রের খবর পেয়ে যান বিদেশের মাটিতে বসেই। তাই তিনি সফরসূচি কাটছাঁট করে অনেকটা ঘুরপথে বাংলাদেশে ফেরেন নির্ধারিত সময়ের বেশ কয়েক ঘন্টা আগেই। আসন্ন বিপদ থেকে বাঁচতে সেনাপ্রধানের বিমান অবতরণ করে বিমানবাহিনীর তেজগাঁও বিমানবন্দরে। ফলে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়, এবং ওয়াকার উজ জামান নিরাপদে সেনা সদর দফতরে ঢুকে যান। এই পর্যন্ত ঘটনা আমরা সবাই জানি।
সূত্রের খবর, জামাত শিবির সহ বিভিন্ন ইসলামী কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি এই ষড়যন্ত্র এর পরিকল্পনা করেছিল, বিদেশে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশী এক্টিভিস্টের এতে মদতও ছিল। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্দরে একটা অভ্যেয়ুত্থান ঘটানো। আর তাতে নেতৃত্ব দেবেন লেফটনেন্ট জেনারেল ফাইজুর রহমান। যিনি সম্প্রতি পাকিস্তানী সেনা কর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়িয়েছিলেন। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল। অর্থাৎ পাক মদতে বাংলাদেশ সেনায় অভ্যুত্থান হবে আর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে পদ থেকে সরিয়ে সেখানে বসবে লেফটনেন্ট জেনারেল ফাইজুর রহমান। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সেই ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েই তৎপরতার সাথে দেশে ফেরেন এবং বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেই গোপন সূত্রে খবর।
আর এবার সেনাপ্রধানের রুট ম্যাপ অনুযায়ী হাসিনা নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরবেন বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞ মহলের।












Discussion about this post