এবার কী হবে মুজিবকন্যার? বাংলাদেশে পালাবদলের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন ভারতে। দিল্লির কাছেই কোনও এক অজানা নিরাপদ স্থানে রয়েছেন পদত্যাগী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের শাসনভার এখন অন্তবর্তীকালীন তদারকি সরকারের হাতে। ফলে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর নামে জমা পড়ছে ভুরিভুরি অভিযোগ। খুনের মামলা থেকে আর্থিক দুর্ণীতি, একাধিক মামলায় তাঁর নামে এফআইআর হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত মঙ্গলবার পর্যন্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা-সহ ২৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। আবার তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপহাধ ট্রাইবুনালেও মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণহত্যার মামলা দায়ের হয়েছে। ফলে তাঁর দ্রুত বিচার চেয়ে নতুন করে পথে নামছে বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু হাসিনা রয়েছে ভারতের নিরাপদ আশ্রয়ে, তাই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে কি ভাবে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি শেখ হাসিনাকে দ্রুত পত্যর্পণ করার দাবি জানিয়েছে ভারতের কাছে। এবার শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করল বাংলাদেশের নতুন তদারকি সরকার।
শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় তিনি ভারতে আর কতদিন থাকতে পারবেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কূটনৈতিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের কি করণীয় সেটাও এখন দেখার বিষয়। পুরো বিষয়টি জানার আগে জেনে নেওয়া যাক কূটনৈতিক পাসপোর্ট কি। কোনও দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্রদূত অথবা কোনও ব্যক্তি যিনি সরকারি কাজ পরিচালনার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করেন তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রদান করা হয়। এটি সাধারণ পাসপোর্টের তুলনায় এর গুরুত্ব অনেকটাই আলাদা। সাধারণ পাসপোর্টের থেকে এর রঙের তফাতও থাকে। যেমন বাংলাদেশের কূটনৈতিক পাসপোর্টের রঙ লাল। বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্য ছাড়াও সাংসদ সদস্য এবং বিদেশ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের লাল পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। যাদের লাল পাসপোর্ট থাকে, তাঁদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য সাধারণত ভিসার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শেখ হাসিনাও কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্টের অধিকারী ছিলেন। এর ফলে খুব অল্প সময়ের নোটিশে তিনি ভারতে আসতে পেরেছিলেন। কিন্তু বুধবারই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন তদারকি সরকার শেখ হাসিনা-সহ পূর্বতন সরকারের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লিগের সংসদ সদস্যদের কূটনৈতিক পাসপোর্চ বাতিল করেছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে সিকিউরিটি সার্ভিস ডিভিশনের সিনিয়র সচিব মহম্মদ মশিউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান। তিনি আরও জানান, কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পরবর্তী প্রক্রিয়াও শুরু করা হচ্ছে। অর্থাৎ, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণ অভ্যুত্থান ঘটার পর শেখ হাসিনা তাঁর বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সেনা হেলিকপ্টারে চেপে ভারতে চলে আসেন। তিনি দিল্লির কাছে হিন্দওয়ান এয়ারবেসে অবতরণ করেন। এরপর থেকে হাসিনা ভারতেই রয়েছেন। তবে তিনি ঠিক কোন ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে ভারতে রয়েছেন সেটা এখনও অজানা। অর্থাৎ ভারত সরকারের তরফে এই বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী কোনও ব্যক্তি ভারতে বিনা ভিসায় ৪৫ দিন পর্যন্ত থাকতে পারেন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন তদারকি সরকার শেখ হাসিনার লাল পাসপোর্ট বাতিল করার পর তাঁর ভারতে থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত নিয়ে যাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে এক সমঝোতাপত্র অনুযায়ী হাসিনার ভারতে থেকে যাওয়া আটকাবে না। কারণ ওই সমঝোতাপত্রে ভারত এবং বাংলাদেশের সংশোধিত ট্র্যাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি হয়েছে। সেই মোতাবিক আরও কয়েকদিন ভারতে থাকতে পারবেন শেখ হাসিনা। কিন্তু কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় তাঁর অনির্দিষ্টকাল ভারতে থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।












Discussion about this post