এনসিপি তৈরী করেছিল জামাত। মানে শিক্ষিত মার্জিত ছাত্রদের সামনে রেখে পিছন থেকে আন্দোলোন চালিয়ে গিয়েছিল জামাত। তার জন্য তারা এই ছাত্রদের আহত নিহত করতে পিছু পা হয়নি। জামাত জানত দেশের সাধারণ মানুষ তাদের স্বাধীনতা বিরোধী বলেই জানে। মানে ঐ জামাত মানেই পাকিস্তানি। শুধু ছাত্ররা বা শিবির যুক্ত হয়ে হাসিনাকে সরাতে পারবে না, তাই প্রথম কাজ হাসিনাকে সরানো সেই লক্ষ্যে ছাত্রদের সার্পোট এবং স্বাধীনতার জয়গান গেয়ে হাসিনা বিরোধী আন্দোলোনকে জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়েছিল। যখন আন্দোলোন আশানুরুপ ফল দিতে পারছিলনা, তখন আবুসইদ মুগ্ধদের পিছন থেকে হত্যা করে পুলিশের উপর দায় চাপিয়ে, দেশের সাধারণ মানষকে খেপিয়ে সরকারের পতন ঘটায় জামাত। তারা আগের থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিল যে একবার সরকার ফেলে ক্ষমতা হাতে নিতে পারলেই সবাইকে সাইড করে তারা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ক্ষমতা কায়েক করতে পারবে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে হয়েছেও তাই। এমন কি বিএনপি যে ভোট জিতে ক্ষমতায় জেতে পারবে তার নিশ্চয়তা বিএনপির বড় বড় নেতারাও দিতে পারবে না। জামাত ভেবেছিল ছাত্ররা আন্দোলোন করে সরকার ফেলে দিয়ে হয় নিজেদের জায়গায় ফিরে যাবে নয়তো জামাতের রাজনীতি করবে। তারা ভাবেনি যে এই ছাত্ররা আবার আলাদা করে দল তৈরী করবে। কারণ জামাত তো চায়নি কোন শিক্ষিত সমাজ দেশটাকে চালাক। যারা নারীদের সম্মান করবে। রাজনীতি করতে দেবে। পর্দা সরিয়ে লোক সমাজে আসার অনুমতি দেবে। এগুলি তো জামাতের রাজনীতিতে নেই। তাই তারা কোন মহিলাকে তাদের দল থেকে প্রার্থী হতে দেয় নি। আর জামাতের সঙ্গে জোট করার কারণে এনসিপির মহিলা নেত্রীরা দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এনসিপি এখন শুধুমাত্র সস্তার বোড়ে। ফলে এনসিপির অবস্থা এখন জলে কুমির আর ডাঙায় বাঘ। তাদের এখন বাঁচার মরিয়া চেষ্টা। শুধু রাজনীতিতে নয়, দেশে বেঁচে থাকতে হলেও তাদের জামাতের মত দলের সহযোগীতা প্রয়োজন। কিন্তু জামাত তাদের ব্যবহার করেই ছেড়ে দেবে।
ফলে এনসিপি কতদিন তাদের দলটিকে টিকিয়ে রাখতে পারবে সেটিই বড় প্রশ্ন। শোনা যায় তারা বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করতে গিয়ে বিফল হয়েছিল। তাছাড়া বিএনপি জিতলে যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন সেই তারেক রহমান সমন্ধ্যেও খারাপ মন্তব্য করে বিএনপির বিরাগ ভাজন হয়েছে নতুন এই দলটি। এখনও তারা বিএনপিকে চাঁদাবাজ বলেই সম্বোধন করে। আর এখানেই তারা রাজনৈতিক মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের লড়াই ছিল আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে। তারা সেই লড়ায়ে জিতেছে, কিন্তু আবেগের লড়ায়ে জিতে কৌশলের লড়ায়ে হেরে গেছে। তারা যদি বিএনপি এবং জামাত এই দু দলের সঙ্গেই তাদের দর কষাকষির দরজাটা খুলে রাখতে পারত তাহলে আজ তাদের জামাতের কাছে ঠকতে হত না। জানা যাচ্ছে জামাত তাদের ৩০টি আসনে প্রার্থী দিতে দেবে বলে জোট করিয়ে এখন ১০ টি আসনের বেশী ছাড়তে চাইছে না। আর এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হল এনসিপির গ্রহণ যোগ্যতা শুধু সমাজ মাধ্যমে, কোন কোন ক্ষেত্রে আবার জামাতের অভিযোগ বহু ছাত্রনেতা যারা দু-বেলা খেতে পেত না তারা কি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়। এছাড়া এনসিপি দলটি না থাকার মূল কারণ হল,সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একে একে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সরে যাচ্ছেন দলের নারী নেত্রীরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এই জনপ্রিয় নেত্রীরা পদত্যাগ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য ও বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে জামায়াতসহ সমমনা আট দলের সঙ্গে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এনসিপির এই সিদ্ধান্তে দলের অনেকের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে নিজেদেরকে নিষ্ক্রিয় রাখার কথা বলেছেন, অনেকে ছাড়ছেন দল।
জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোটের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলের সব নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। তিনি বলেছেন, এই জোটবদ্ধ হওয়া তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক ধরনের ‘প্রবঞ্চনা’।
তিনি বলেছেন, ‘এ সমস্ত ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে আমি নুসরাত তাবাসসুম, (যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি) প্রাথমিকভাবে নির্বাচনকালে নিজেকে পার্টির সব কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় করছি।’
এনসিপি জামায়াত জোটের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও তার স্বামী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীনও দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাজনূভা বলেছেন, ‘নিজেরও ভালো লাগছে না, এভাবে ছেড়ে যেতে। কিন্তু যারা এই দেশ, এই সংসদই চায় নাই তাদের সমঝোতায় একদম শুরুতেই এমপি হতে চাওয়া বা যারা এদের কল্যাণে এমপি হওয়ার জন্য হাভাইত্তার মতো করছে, তাদের নেতৃত্ব মানা আমার পক্ষে ঠিক গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর অসম্ভব। পুরো জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের নাম করে তুলে দিচ্ছে জামায়াতের হাতে।
খাগড়াছড়ি থেকে মনোনয়ন পেয়েও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির আরেক নেত্রী অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা ঝুমা। তিনি বলেছেন, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে আমার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি। আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি না। ফলে এই দল আর কতদিন টিকে থাকবে তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post